ফরিদপুরের সদরপুরে দিনমজুরের ছেলে লুত্ফর রহমান ও হাফিজুল পেয়েছে জিপিএ-৫। আর দারিদ্র্যতাকে হার মানিয়েছে কুমিল্লার ফারুক হোসাইন। দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি গোপালগঞ্জের মেধাবী সাবরিনা আক্তার মিমকে। ভাল ফল করেও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে গাংনীর আসাদুল্লাহ। শত প্রতিকূলতার মাঝে জিপিএ-৫ পেয়েছে পীরগঞ্জের কৃষককন্যা ফারজানা। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
সদরপুর (ফরিদপুর) : উপজেলার বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মো. লুত্ফর রহমান বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা ডাঙ্গী গ্রামের দিনমজুর মো. তোতা মিয়া ও মা খাদিজা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। সে ভবিষ্যতে চিকিত্সক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়। কিন্তু পিতার অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে একই বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে হাফিজুল ইসলাম জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের দিনমজুর ইচাহাক মোল্লা ও গৃহিণী হালিমা বেগমের একমাত্র পুত্র। ভষিষ্যতে সে প্রভাষক হতে চায়। কিন্তু তার আশা পূরণ হবে কিনা সে নিশ্চয়তা নেই।
কুমিল্লা : দারিদ্র্যতা ও অর্থ সংকট দমিয়ে রাখতে পারেনি দরিদ্র পিতার মেধাবী সন্তান ফারুক হোসাইনকে। কাজিয়াতল রহিম-রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের দরিদ্র শাহজাহান মিয়ার ছেলে ফারুক হোসাইন। অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে ও প্রাইভেট পড়িয়ে ফারুকের যা আয় হয় তা দিয়ে কোনরকমে সংসার চলে পরিবারটির। ফারুক হোসাইন ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু তার দরিদ্র পিতার মেধাবী পুত্রের এ ইচ্ছা পূরণ করার মতো সাধ্য নেই। ছেলের সাফল্যে আনন্দের মধ্যেও কষ্ট তাড়া করে বেড়াচ্ছে পিতা শাহজাহান মিয়াকে।
গোপালগঞ্জ : দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি অদম্য মেধাবী সাবরিনা আক্তার মিমকে। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সে গোপালগঞ্জ মহিলা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভবিষ্যতে সে চিকিত্সক হতে চায়। কিন্তু দারিদ্র্যতার কারণে তার উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাবা সদর উপজেলার ঘোষেরচর দক্ষিণপাড়া গ্রামের নওশের আলী মিয়া টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের ৪র্থ শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। সামান্য অবসর ভাতা দিয়ে যেখানে সংসারই চালাতে পারেন না সেখানে মেয়ের পড়াশোনা চালানো তার জন্য দুরূহ ব্যাপার।
