পৃথিবীর প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষিজীবী মানুষ। তাদের কারণে প্রতিবছর জাতীয় উন্নয়নে কৃষিতে অবদান বাড়ছে। ক্ষুদ্র কৃষকরাই খাদ্য ঘাটতি মেটাতে সব থেকে রাখছে বেশি ভূমিকা। এই প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পৃথিবীর অন্য সকল দেশের মতই বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ভেবেচিন্তে খাই, অপচয় কমাই’। খাদ্য অপচয় বিরোধী মনস্তত্ত্ব তৈরিতে এ প্রতিপাদ্য বিষয়টি নির্বাচন করা হয়েছে।
পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি দেশের পরিবেশ দূষণরোধ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকরী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে তিনি ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’, ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন’ ও বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে কৃষিখাত। ফলে সারাবিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে যেকোন সময় খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা থাকে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র আঘাতে কৃষি উত্পাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের ফলে ২০০৭-২০০৮ ও ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে টাকা দিয়েও বিদেশ থেকে খাদ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যা অনুপাতে কমপক্ষে ৩০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা উচিত। কিন্তু সরকারিভাবে মজুদ থাকছে এর অর্ধেক। পর্যাপ্ত গুদামের অভাবে মজুদ বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।
অন্যদিকে খাদ্য ঘাটতি নয়, উল্টো গত ২/৩ বছর ধরে দেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকছে। এর পেছনে কাজ করছে দেশের প্রান্তিক কৃষকরা। অথচ এদের মধ্যে জমিবিহীন কৃষক রয়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ, অভিবাসন কৃষকের সংখ্যা হচ্ছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গ্রামের দরিদ্র খামারি কৃষক রয়েছে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এসব কৃষকের সংখ্যা হচ্ছে মোট জনসংখ্যার ৩৭ শতাংশ। তবে দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই বিষয়টি নিশ্চিত করে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশে বরং খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকছে। আবাদী জমি কমলেও ভাল ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রযুক্তি, নতুন উদ্ভাবন খাদ্য উত্পাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন গুদাম নির্মাণ করে মজুদ বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ড. হাছান মাহমুদ সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, অপরিকল্পিত খাদ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্বে প্রতিবছর খাদ্য অপচয় হয়। এর ফলে তৈরি হয় আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের প্রয়োগ ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৭ ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় আট শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে ১১০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে।
