বিজিবি ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৩, ২২:২৫
নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আইন প্রয়োগে বাধ্য না করার জন্য প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটারদের মন জয় করে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করুন। আইনের ব্যত্যয় ঘটালে আমরা প্রার্থিতা বাতিল করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো। নির্বাচনের দিন নগরীতে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্টগার্ড মোতায়েনের কথা জানান নির্বাচন কমিশনার। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে তিন মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাথে তিনি মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নুরুল আমিন, পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিন বক্তৃতা করেন। উপস্থিত ছিলেন রিটার্নিং অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম, র্যাব-৮’র অধিনায়ক লে. কর্নেল ফরিদ হোসেন। সভায় মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার জন্য নির্বাচন কমিশনারকে আহ্বান জানান। অপর মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও কোতয়ালী থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেনসহ কয়েক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘এসব পুলিশ কর্মকর্তা আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর ক্যাম্পেইন করে বেড়াচ্ছেন। তারা বহাল থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। এ অবস্থা থাকলে আদৌ নির্বাচনে থাকবো কি না ভেবে দেখতে হবে।’ বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুন অভিযোগ করেন তার প্রচারণায় প্রতিদিন বাধা দেয়া হচ্ছে। মাইক, অটো রিকশা ও রিকশা ভাংচুর এবং কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। কাউন্সিলর প্রার্থীরা স্ব-স্ব ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কালো টাকা, পেশী শক্তির দাপট ও পোস্টার লিফলেট বিতরণে কোনো আচরণবিধি মানছে না বলে অভিযোগ করেন। বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ কে ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনারকে জানান। প্রার্থীদের বক্তব্য শোনার পর নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ বলেন, ৪টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সবচেয়ে বরিশালের পরিবেশ ভালো। এ কৃতিত্ব এখানকার প্রার্থীদের। প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নির্বাচন পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রার্থীদের মধ্যে আন্তরিকতা না থাকলে নির্বাচন কমিশনারের একার পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে প্রার্থীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করতে পারলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অহেতুক ঢালাওভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে হয়রানিমূলক বদলি করতে কমিশন ইচ্ছুক নয় বলে তিনি জানান। বরিশালে বিচারক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন স্মৃতিচারণ করে শাহনেওয়াজ বলেন, এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়। আশাকরি নির্বাচন পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবেন। কাউন্সিলর প্রার্থীদের চিহ্নিত করা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ গুলো তিনি তালিকাভুক্ত করেছেন। পুলিশের তালিকায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দে র সাথে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনার জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেক কেন্দে পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে ২২ জনের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ মোট ৫টি বাহিনীর সদস্যরা এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনের আগে-পড়ে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে এসব বাড়তি জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আপাতত মাঠ পর্যায়ে যেসব সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সতর্ক ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশ কমিশনারকে আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা শেষে প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল পুনরায় নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাক্ষাত্ করে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেনকে বদলির দাবি জানান। নির্বাচন কমিশনার ওসি সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। এদিকে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহমেদের বিরুদ্ধে শওকত হোসেন হিরনের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগে আইনজীবী সমিতির সভাপতি কেবিএস আহমেদ কবির জানান, উপ-পুলিশ কমিশনার সোয়েব আহমেদ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের আনারস প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তাকে প্রত্যাহারের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।