তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরা মোগল সম্রাটদের চেয়েও বেশি ক্ষমতা ভোগ করেন। এই কুক্ষিগত ক্ষমতাই গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ। এই বিপদ থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে ক্ষমতার অবশ্যই বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় ড. খান এসব কথা বলেন। সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নাগরিক ঐক্যের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ক্রমশ বিপন্ন হতে চলেছে। এখানে দেশের মূল সমস্য হলো ব্যবস্থায়। কেন্দ ীয় সরকার ব্যবস্থা একটি ভবনের কাছে জিম্মি। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আছে নামেমাত্র। এভাবে আর যাই হোক গণতন্ত্র হয় না।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দুই নেত্রীর হাতে দেশ নিরাপদ নয়। দেশকে রক্ষার জন্য তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার এখনই সময়। এ লক্ষ্যে নাগরিক ঐক্য ইতিমধ্যেই দেশের ১০টি জেলায় কমিটি গঠন করেছে। আরো ২০টি জেলা কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদন খালিকুজ্জামানসহ আয়োজক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আকবর আলি খান গণতন্ত্র রক্ষায় চারটি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এগুলো কঠিন কাজ। কিন্তু এর কোনোটি বাদ দিলেই গণতন্ত্র হবে না।
তিনি বলেন, এমন কোনো তৃতীয় শক্তিও চাই না, যারা লঙ্কায় গিয়ে রাবন হবে। কারণ আমাদের দেশে যিনিই লঙ্কা যাচ্ছেন তিনি রাবন হচ্ছেন। কেউ একবার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলেই দেশটাকে পাঁচ বছরের জন্য ‘মৌরসী পাট্টা’ (কোনো কিছু দলিল করে নেয়া) নিয়ে নিচ্ছে। যা খুশি তাই করছে। জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে কোনো মূল্যই দিচ্ছে না।
নাগরিক ঐক্যের নেতাদের উদ্দেশে ড. আকবর আলি খান বলেন, নাগরিক ঐক্যের পথ অতি সহজ নয়। তাদের কাজ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতনের প্রতিবাদ করা।
