সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজায় কর্মরত নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের তালিকা তৈরি, নিহত ও আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক ও আহত-নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ডে রানা প্লাজার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এরপর একটি বিক্ষোভ মিছিল স্থানীয় শিমুলতলা ঘুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয়পাশ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রানা প্লাজার সামনে এসে শেষ হয়। পরে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহাসড়কে প্রায় একঘণ্টার জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশ থেকে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিখোঁজ ও আহত-নিহত শ্রমিকদের সঠিক তালিকা প্রকাশ, দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান, কর্মস্থলে কাজের নিরাপত্তা, আহতদের পুনর্বাসন ও ধসে পড়া রানা প্লাজার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওই ভবনের গার্মেন্টগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান এবং এই ঘটনার দায় হিসেবে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পদচ্যুতিসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
তারা স্পেনের নাগরিক গার্মেন্ট মালিক ডেভিটকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বক্তারা নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ চল্লিশ লাখ টাকা এবং হাত-পা অথবা যেকোন অঙ্গহানির কারণে প্রতিবন্ধিত্বের শিকার হওয়া শ্রমিকদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসনসহ আহত সকল শ্রমিকের সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা পুনরায় বিক্ষোভ মিছিল সহকারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে সমাবেশের আয়োজন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এদিকে রানা প্লাজার সামনে কর্মসূচিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ , ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, জাতীয় শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফোরামের কেন্দ ীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
