আসন্ন রজমানের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ৭ জুলাই নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য একটি খসড়া তফসিল চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রজ্ঞাপন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে গতকাল প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করে জারি করা হলেও রোজার আগে পর্যাপ্ত সময় না থাকায় নির্বাচন হচ্ছে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেন, আসন্ন রোজার আগে নির্বাচন করলে ভালো হতো। কিন্তু পারলাম না। সময় স্বল্পতার কারণে ঈদের পরে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। কারণ প্রার্থী ও ভোটারদের নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সময়ের প্রয়োজন। তাই পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ডিসিসি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
সিইসি আরো বলেন, রোজার আগে নির্বাচন করলে সময় থাকে ৩২ দিন। ৪০-৪৫ দিন সময় নিয়ে তফসিল ঘোষণা করলে প্রার্থী ও ভোটারের জন্য ভালো হয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে তবে দুই ঈদের মাঝখানে ডিসিসি নির্বাচন করতে চাই। ৪০ লক্ষাধিক ভোটারের ডিসিসির দুই ভাগে নির্বাচন করলে জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ডিসিসি নির্বাচনের আর কেনো জটিলতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে আর কোন আইনি জটিলতা নেই। যেসব জটিলতা ছিল তা সমাধান করা হয়েছে। নির্বাচন করা বা না করার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন চলতি সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সেই মোতাবেক সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে কমিশন। গত সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের তফসিলীকরণের প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে জারি না হওয়ায় তা করা সম্ভব হয়নি। এরপরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল কমিশন। ইসি থেকে সাংবাদিকদের বারবার বলা হয়েছিল, ৭ জুলাই-ই নির্বাচন হবে। দ্রুত ৫৭ ওয়ার্ডের তফসিলীকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারে ইসি স্থানীয় সরকার বিভাগকে তাগাদা দিলে তড়িঘড়ি করে গত সোমবার রাতের মধ্যে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তফসিল ঘোষণার জন্য গতকাল আবার বৈঠকে বসে কমিশন। কিন্তু বৈঠক শেষে হঠাত্ জানানো হয়, রোজার আগে তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইসির দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, কমিশন নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত থাকলেও ইসি সচিবালয় ছিল অপ্রস্তুত। তারা কমিশনের প্রস্তুতকৃত খসড়া অনুযায়ী ৭ জুলাই নির্বাচনের পক্ষে ছিল না। শেষ মুহূর্তে সচিবালয়ের কর্মকর্তা নতুন ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ২০১০ সালে পুরাতন ৯১ ও ৯২ (নতুন ৫৫ ও ৫৬) ওয়ার্ড করা হলেও তার চৌহদ্দি উল্লেখ না করে দাগ নম্বর উল্লেখ ছিল। নতুন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটির সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে যুক্ত করা হলেও ওই এলাকার আমিনবাগ, পশ্চিম আশ্রাফাবাদ, মোমিনবাগ, আহসানবাগ ও কুমিল্লাপাড়ার কিছু অংশ ৫৫ ও ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু ঐসব এলাকার কোন স্থান নির্দিষ্ট না করে দাগ নম্বর উল্লেখ করায় ভোটার সিডি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। ভোটার সিডি করতে কমিশনকে সরেজমিনে যেতে হবে। এছাড়া নির্বাচন আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজারের মতো জনবলের প্রয়োজন। এতো স্বল্প সময়ে জনবল প্রস্তুত রাখা সম্ভব নয়। যার কারণে মঙ্গলবারও তফসিল ঘোষণা সম্ভব হয়নি। তবে আরেকটি সূত্র বলছে, কমিশন চাইলেও রোজার আগে নির্বাচনের পক্ষে ছিল না সচিবালয়। এর আগে সচিবালয় নির্বাচন আয়োজনে তত্পর থাকলেও কমিশন আইন-কানুন মেনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পক্ষে ছিল। পরে রোজার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় মত দেয় কমিশন।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, বাস্তবতার আলোকে রোজার আগে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব ছিল না। কারণ মঙ্গলবার তফসিল ঘোষণা করলে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য মাত্র ৪ দিন সময় পাচ্ছিল। তাছাড়া প্রার্থীদের ব্যাংক ঋণসহ নানা বিষয়ে পর্যাপ্ত সময় দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এসব বিবেচনায় রোজার পর তফসিল ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।
তফসিল নিয়ে তড়িঘড়ির ব্যাপারে তিনি বলেন, কমিশনের ইচ্ছা ছিল রোজার আগে নির্বাচন করার। স্থানীয় সরকার থেকে আগে জটিলতা নিরসন করলে নির্বাচন আয়োজন করা হয়তো সম্ভব ছিল। কিন্তু তারা সময়ক্ষেপণ করেছে।
