আবারও তিন বন্ধুর

হ্যাংওভার

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ১৮:৫৫
হ্যাংওভার, নামটা শুনলেই মনে হয় ব্যাপারটা বেশ মজার কিছু হবে। সত্যিই তাই, তিন বন্ধু মিলে নানা সব মজার কাণ্ড কারখানা ঘটায়, আর সেগুলোকে কেন্দ্র করেই তৈরি হ্যাংওভার নামের কমেডি মুভিটি। আবারও এই তিন বন্ধু আসছেন পর্দা কাঁপাতে। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ডাগের দিনকাল দারুণ যাচ্ছিল। সুন্দরী অর্থশালী এক মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছে ক’দিনের মাঝে। বিয়ের দু’দিন আগে বন্ধুরা ধরল ব্যাচেলর পার্টির জন্য। ডাগের হবু শ্বশুর জামাইকে ধার দিলেন তার প্রাণপ্রিয় ক্লাসিক মার্সিডিজ। ওরা যাচ্ছে লাস ভেগাসের সিন সিটিতে, জমকালো ব্যাচেলর্স পার্টিতে। সিন সিটিতে পৌঁছে জমকালো এক সুইট ভাড়া নিল চার বন্ধু। রাতের বেলা মজা করার জন্য ওরা সার্ভিস করিডর দিয়ে হোটেলের ছাদে উঠে বসে মদের বোতল নিয়ে। অতি চালাকী করতে গিয়ে তাদের বন্ধু এলেন বোতলে কিছু একটা ড্রাগ মেশায়। পরদিন সকাল থেকেই শুরু হয় নানা ধরনের মজার সব ঘটনার। রাতে মাতাল অবস্থায় তারা কে কী করেছে কিছুই মনে করতে পারে না। বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় সব রহস্যের সমাধান। এই ছিল ‘হ্যাংওভার’ সিনেমার গল্প। পরিচালক টড ফিলিপস এর আগে ‘রোড ট্রিপ’, ‘ওল্ড স্কুল’, ‘স্ট্যাসি অ্যান্ড হাচ’, ‘স্কুল অব স্কাউন্ড্রেলস’, ‘বোরাট’ এমন অনেক পপুলার ছবি বানিয়েছেন। মুক্তির সাথে সাথেই ব্রাডলি কুপার অভিনীত এই সিনেমাটি বেশ রমরমা ব্যবসা করে। শুধু তাই না, পরবর্তীতে এই সিনেমার আরও একটি সিক্যুয়েল বানানো হয়। সেটাও ছিল ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয়। সম্প্রতি এই কমেডি ধাঁচের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য সুখবর হলো, মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমার তৃতীয় সিক্যুয়েল। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এই সিক্যুয়েল নিয়ে ব্রাডলি কুপার অনেক এক্সসাইটেড। ‘হ্যাংওভার’ সিরিজের তৃতীয় সিনেমাটিতে কাজ করার পর সিরিজটি শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকটাই বিষণ্ন ব্র্যাডলি কুপার। জানা গেছে, ‘হ্যাংওভার’ সিরিজের শেষ সিনেমাটির কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কুপার বলেছেন কাজের অভিজ্ঞতাটি ছিল অনেক ‘আবেগঘন’। সেই সঙ্গে তিনি আরও জানান সিনেমাটির কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় মন খারাপ তার। কুপার বলেন, ‘এটা বেশ দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমার অনুভূতি কিছুটা মিষ্টি, কিছুটা তিক্ত।’ আর সিনেমাটিতে কাজ করে ব্র্যাডলি জীবন থেকে কী শিখলেন জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কীভাবে কৃতজ্ঞ হতে হয় তাই শিখেছেন তিনি। ‘হ্যাংওভার’ সিরিজের তৃতীয় সিনেমা ‘হ্যাংওভার ৩’-এ দেখা যাবে কুপার ও তার দল শেষবারের মতো লাসভেগাসে ফিরে যায় একটি পুরোনো ঋণ শোধ করতে এবং সেই সঙ্গে তাদের অতীতের সব ঘটনা পেছনে ফেলে আসতে। কোনো স্পয়লার নয়, তবে প্রথম দিক কিছুটা না বললেই নয়। শুরুটা অ্যালানকে দিয়েই। বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে। বলা যায় বখে যাওয়া, মানে অর্থ-বিত্তের দিক দিয়ে। যখন যা চায় তা পেয়ে অভ্যস্ত। আর তাই ৪২ বছর বয়সেও বাবার হোটেলেই খেয়ে পরে আছে। তা নিয়ে মা-বাবার চিন্তার শেষ নেই। এমন একটা দুর্ঘটনা ঘটালো অ্যালান যে বাবার তা সহ্য হলো না। হার্ট অ্যাটাকে প্রাণ হারালেন। কিন্তু নির্বিকার অ্যালান। এই অবস্থায় চিন্তিত পরিবার। অ্যালানকে সঠিক পথে আনতেই হবে, বাবার অবর্তমানে নিতে হবে সব কিছুর দায়িত্ব। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো তাকে পাঠাতে হবে রিহ্যাবে। কিন্তু কে বোঝাবে অ্যালানকে। ডাকা হলো তার বন্ধু উল্ফপ্যাকের বাকি দুই সদস্য স্টু আর ফিলকে। অ্যালান রাজি হলো তবে তার সাথে যেতে হবে বন্ধুদেরও, শর্ত এমনি। কী আর করা বন্ধুর ভালোর জন্য তার সাথে আবারও পথে নামলো উল্ফপ্যাক। কিন্তু রাস্তায় নামবে উল্ফপ্যাক আর কোনো কিছু ঘটবে না তা কী হয়। শুরু হলো একের পর এক মজার মজার ঘটনা। যথারীতি সবার অভিনয় ছিল দারুণ আর মজাদার সব ডায়ালগ। আর বেশি বলতে গেলেই সব বলা হয়ে যাবে আর মজাগুলোই চলে যাবে। তাই আর কিছুই বলা যাবে না। অপেক্ষা করতে হবে ছবিটি দেখার জন্য। পুরনো পর্বগুলোর সাথে যোগসূত্র রয়েছে অবশ্যই। দেখা যাবে অনেক পরিচিত চরিত্রকেও। তবে আমার মতে প্রথম পর্বই ছিল অনেক বেশি মজার। ‘হ্যাংওভার ৩’ সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ব্র্যাডলি কুপারসহ অভিনেতা জ্যাক গ্যালিফিয়ানাকিস, জাস্টিন বারথা এবং এড হেমস।