সিরিয়ায় দুই বছরের লড়াই-সংঘর্ষে কয়েকবার রাসায়নিক সারিন গ্যাস ব্যবহার হয়েছে বলে দাবি করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফেবিয়াস। অপরদিকে, জাতিসংঘ বলেছে, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলার আলামত পাওয়া গেছে।
সারিন গ্যাসের ব্যবহার গবেষণাগারের পরীক্ষায় ধরা পড়েছে বলে জানান ফেবিয়াস। সিরিয়ার লড়াইয়ে যারা এ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে তাদেরকে সাজা পেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এ অস্ত্র কোথায়, কখন এবং কে ব্যবহার করেছে তা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। তিনি জানান, সিরিয়ার কয়েকটি জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফ্রান্সে তা পরীক্ষা করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ফেবিয়াস বলেন, ‘বেশ কিছু নমুনা পরীক্ষাতেই সারিনের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।’ পরীক্ষার ফলাফল জাতিসংঘের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লে¬খ্য, সারিন বর্ণহীন এক মারাত্মক ধরনের রাসায়নিক নার্ভ গ্যাস। এর আগে জাতিসংঘ কমিশনের এক নতুন প্রতিবেদনে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলার আলামত পাওয়ার কথা জানানো হয় এবং এ ধরনের অস্ত্র সিরিয়ায় সরকার ও বিদ্রোহী দু’পক্ষই ব্যবহার করেছে এমন বিশ্বাসের ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থেকে কি ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে, কারা তা ব্যবহার করেছে এবং কে সরবরাহ করেছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন জাতিসংঘ তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান পাওলো পিনহেইরো। তিনি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদেরকে ঢুকতে দেয়ার জন্য দামেস্ককে আহ্বান জানান।
সিরিয়ার লড়াইয়ে সরকার এবং বিদ্রোহী পক্ষ উভয়ই রাসায়নিক অস্ত্র হামলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই জাতিসংঘের ২০ জনেরও বেশি সদস্যের তদন্তকারী দল ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর শরণার্থী এবং সিরিয়ায় অবস্থানরত মানুষদের মধ্যে ৪৩০ জনের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন। এ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং ইউটিউবে ভিডিও’ও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি জাতিসংঘের তদন্তকারীরা।
