চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু হচ্ছে আজ

শুরুতেই মুখোমুখি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ২১:২৪
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার খেলার মধ্য দিয়ে আজ ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে শুরু হচ্ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সমাপনী আসর। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেয়া ভারত চাইবে মূল টুর্নামেন্টেও তার পুনরাবৃত্তি করতে। অন্যদিকে প্রতিযোগিতার প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা চাইবে শুরুর মতো শেষটাও স্মরণীয় করে রাখতে। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। ‘এ’ গ্রুপে গত দুই আসরের শিরোপাধারী অস্ট্রেলিয়ার সাথে থাকছে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ছাড়াও থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল মাত্র একবারই একে অপরের মুখোমুখি হবে। সেক্ষেত্রে শিরোপা জয়ী দল খেলবে সব মিলিয়ে কেবল পাঁচটি ম্যাচ। সেক্ষেত্রে একটি দল যদি তাদের প্রথম দুটি ম্যাচেই জয় পায়, তারপরও নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না তারা সেমিফাইনাল খেলছে কিনা। কারণ গ্রুপের অন্য দলটি যদি তাদের তিনটি ম্যাচই হারে তাহলে দেখা যাবে বাকি তিনটি দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যাচ্ছে। তাই বলা হচ্ছে এটি এমন একটা টুর্নামেন্ট যেখানে প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটনও মনে করছেন তেমনটাই। তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচই দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।’ এদিকে ১৮ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত আজ মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন প্রোটিয়াদের। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানধারী ভারত ইতিমধ্যে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে ভালভাবেই। কার্ডিফে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে গত মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৬৫ রানে অলআউট করে ২৪৩ রানের বড় জয় পায় ভারত। এর আগে প্রথমটিতে তারা শ্রীলঙ্কার দেয়া ৩৫৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা পেরোয় মাত্র পাঁচ উইকেট হারিয়ে। দিনেশ কার্তিক, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাসহ বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যানই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। এরপরও বরাবরের মতোই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের প্রধান দুর্বলতা তাদের বোলিং বিভাগ। ইংল্যান্ডের পেস সহায়ক উইকেটে ভারতীয় স্পিনাররা কতটুকু কার্যকর হবেন তার উপর মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে। অন্যদিকে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকা এই টুর্নামেন্টে পাচ্ছে না দুই অভিজ্ঞ তারকা জ্যাক ক্যালিস এবং গ্রায়েম স্মিথের সাহায্য। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রস্ততি ম্যাচে তাদের দু’জনের অনুপস্থিতিটা টের পাওয়া যাচ্ছিল বেশ ভালোভাবেই। তবে প্রোটিয়াসরা ওই ম্যাচে ছয় উইকেটে হারের ধকল কাটিয়ে উঠবে বলেই বিশ্বাস অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের। তিনি বলেন, ‘ফলাফলটাই সবসময় মুখ্য বিষয় হতে পারে না। আসল ব্যাপার হচ্ছে আপনি এ থেকে কি শিখলেন। আমি নিশ্চিত দলের সবাই এটা জানে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে তারা জ্বলে উঠবে।’ বিশ্বকাপের পর আইসিসির সবচেয়ে বড় ওয়ানডে আসর হিসেবে ১৯৯৮ সালে ঢাকায় ‘আইসিসি নক আউট টুর্নামেন্ট’ নামে যাত্রা শুরু করে টুর্নামেন্টটি। পরে ২০০২ সালে ফরম্যাটের পাশাপাশি পাল্টে যায় টুর্নামেন্টের নামও। তবে দলগুলোর ব্যস্ততা এবং টেস্ট ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার বিষয়টি মাথায় রেখে আইসিসি টুর্নামেন্টটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বদলে ২০১৭ সাল থেকে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে।