জনসংযোগে ক্লান্ত প্রার্থীরা মিলছে না ভোটের নিশ্চয়তা

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ২১:৪৬
দিনরাত সমান তালে ভোটারদের পিছনে ছুটে চলছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ এলাকার গণ্ডির মধ্যে প্রচারণা সীমাবদ্ধ রাখলেও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের তিনটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করতে হয়। সর্বত্র তাদের পক্ষে যাওয়াও সম্ভব হয় না। কিন্তু প্রার্থী উপস্থিত না হলে ভোটাররা সন্তুষ্ট হন না বলে জানান কাউন্সিলর প্রার্থী সালমা আক্তার শিলা। তিনি ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত নির্বাচনে তিনি এ ওয়ার্ড থেকেই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত নির্বাচনের মতো প্রচারণার জন্য সেই পুরনো স্টাইলেই রেখেছেন বিশাল মহিলা কর্মীবাহিনী। কিন্তু কর্মীরা ভোটারদের কাছে গেলে তারা সন্তুষ্ট হন না। বরং প্রার্থী কেন আসেননি উল্টো জানতে চান। মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের চেয়েও মহাদুর্ভোগে পড়েছেন মেয়র প্রার্থীরা। একেকজন প্রার্থীকে গড়ে প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয় বলে প্রার্থীরা জানান। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জনসমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যেতে হচ্ছে প্রার্থীদের। গতকাল বুধবার দিনভর গণসংযোগ শেষে ক্লান্ত হয়ে গভীর রাতে বাসায় ফেরেন মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন। দিনরাত হাঁটতে গিয়ে পায়ের পাতা ফুলে উঠেছে তার। বালতি ভর্তি পানিতে পা ভিজিয়ে কর্মীদের সাথে কথা বলার ফাঁকে ইত্তেফাককে জানান, হাঁটা ছাড়া আর বিকল্প পন্থা নেই। একটি মাইক্রোবাসে কর্মীদের নিয়ে কোন নির্দিষ্ট এলাকায় যাওয়ার পর গণসংযোগের জন্য বাড়ি বাড়ি যেতে হয়। তখন আর গাড়িতে বসে থাকলে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করা হয় না। অন্য দুই মেয়র পদপ্রার্থী আহসান হাবিব কামাল ও মাহমুদুল হক খান মামুন দিনরাত তারা ছুটে চলছেন ভোটারের পিছনে। অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটিতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে তাদের। ওষুধ সেবন ব্যতীত এখন আর বেশি হাঁটতে পারেন না আহসান হাবিব কামাল। গতকাল তিনি গণসংযোগ করেছেন সাগরদী এলাকায়। আর মামুন গণসংযোগ করেন প্রাইভেট কারযোগে। গণসংযোগের বিভিন্ন পর্যায়ে কোথাও না কোথাও মামুনকে গাড়ি রেখে হাঁটতে হয় মাইলের পর মাইল। এভাবেই চলছে প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনা ও গণসংযোগ। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে এখনো ভোটপ্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না কোন প্রার্থীই। সকলেই ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে প্রার্থীদের বিদায় করছেন। ফলে একই ভোটারের কাছে প্রার্থীকে বার বার ধরনা দিতে হচ্ছে। দলীয় ভোট দুই জোটের প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত হওয়ার পর এখন সাধারণ ভোটাররা ভুগছেন সিদ্ধান্তহীনতায়। জয়-পরাজয় নির্ধারণে এই সাধারণ ভোটাররাই মূল ফ্যাক্টর হন বলে রাজনৈতিক দলের নেতারা মনে করছেন।