সেনা মোতায়েন করতে হবে :মনি ; সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই :খালেক

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ২১:৪৮
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি। তিনি বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অবশ্যই ভোট কেন্দ্রগুলোতে সেনা মোতায়েন করতে হবে। সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের পুলিশ এখনও গ্রেফতার করেনি। তাদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। শ্রেণী-পেশা, জাতি-ধর্ম, ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ ভেদে সকল নগরবাসীর প্রাপ্যসেবা সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই আমি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। নির্বাচিত হলে সকলের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে খুলনাকে একটি তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করতে কাজ করে যাবো। দৈনিক ইত্তেফাকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন। মনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। যে স্বপ্ন নিয়ে জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। আমার লক্ষ্য নগর ভবনকে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, টেন্ডারবাজি থেকে মুক্ত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নগরবাসীর সেবা করা। এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান মনি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রী ভোট চেয়ে আচরণ বিধি লংঘন করেছেন। আমি নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নেই। বর্তমানে যারা নগরীর আইন-শৃংখলার দায়িত্বে রয়েছেন তাদের প্রতি আমার কোন আস্থা নেই। দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তারা থাকলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। নির্বাচন কমিশন যদি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে তাহলে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হতে পারে। তা নাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, বর্তমানে খুলনা মহানগরীর সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক ভালো। ফলে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোন প্রয়োজন নেই। গত পাঁচ বছর মেয়র পদে থাকাকালে দৃশ্যমান অনেক কাজ করেছি। বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাতশ’ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০১৬ সালে খুলনা মহানগরী দেশের একটি মডেল নগরী হবে। গত মঙ্গলবার ইত্তেফাকের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। সদ্য পদত্যাগী মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ৫ বছরে আমার দেয়া অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা মহানগরীর রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বেশ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দায়িত্বকালে নেয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের কাজগুলো শেষ হয়েছে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কাজ চলছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এসেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এবার নির্বাচিত হলে দুর্নীতি পুরোপুরি দূর করবো। তিনি বলেন, খুলনা মহানগরসহ কর্পোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রমে গতিশীলতা এসেছে। ব্যাংকের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য খাতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ায় নগরবাসী ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও খুলনার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক ভালো। কেসিসি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের মত পরিস্থিতি দেখছি না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি সেনা মোতায়েন করতে চান তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও চড় থাপ্পড় মারা সম্পর্কে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে তাকে মাঝেমধ্যে কঠোর হতে হয়েছে; তা না হলে কর্পোরেশন চালাতে বেগ পেতে হতো। তবে এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন ও ক্ষমা চেয়েছেন। হঠাত্ বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি রাস্তা থেকে আসিনি। আমি ব্যবসায়ী। খুলনার বাইরে আমার ব্যবসা আছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে অবৈধভাবে একটি টাকাও নেইনি। কেউ যদি দুর্নীতির একটি প্রমাণ দিতে পারে তাহলে এই মুহূর্তে ঘোষণা দিয়ে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়াবো।