চট্টগ্রামে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ধর্মঘটে রোগীদের দুর্ভোগ

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ২২:৩৭
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রামে বেসরকারি চিকিত্সা সেবায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে। অপারেশন ও জটিল রোগীরা পড়েছে বিপাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা ‘কলে’ না আসায় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো অপারেশন ও জটিল রোগীদের ভর্তি করছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের প্রাইভেট চেম্বারগুলো বন্ধ। নিরূপায় হয়ে অনেকেই চট্টগ্রাম মেডিক্যালসহ অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন। ভুল চিকিত্সার অভিযোগে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের সার্জারি বিভাগের এক চিকিত্সককে আদালত জামিন বাতিল করে গত সোমবার কারাগারে প্রেরণ করে। অভিযুক্ত চিকিত্সকের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। এই কারণে গত মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রামের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন। গতকাল বুধবার চিকিত্সকরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল থেকে শোভাযাত্রা বের ও মানববন্ধন করেন। কর্মসূচিতে কয়েকশ চিকিত্সক অংশগ্রহণ করেন। বিএমএ চট্টগ্রাম সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, বিভিন্ন দেশে চিকিত্সাক্ষেত্রে ভুল হয়ে থাকে। তাই বলে ক্রিমিনাল এ্যাক্টে মামলা হয় না। চিকিত্সকরা নিরাপত্তা চায়।’ গতকাল চট্টগ্রাম মেডিক্যালের বহির্বিভাগে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীদের দীর্ঘ লাইন। প্রাইভেট চেম্বারে চিকিত্সা নিতে না পারায় অনেক রোগী বহির্বিভাগে চিকিত্সার জন্য এসেছেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. রাজিব জানান, রোগীর চাপ একটু বেড়েছে। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে রোগীর চাপ আরো বাড়ার আশংকা করছেন তিনি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছোট-বড় শতাধিক প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া সেভরন, সিএসসিআর, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল, সেনসিভ, রয়েল হসপিটাল, মেডিক্যাল সেন্টারের মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কয়েকশ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের প্রাইভেট চেম্বার রয়েছে। এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো এখন ফাঁকা। মেডিক্যাল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, জটিল ও অপারেশনের রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে না। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন না হলে ভর্তি করা হচ্ছে। সার্জিস্কোপ ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশেদ কাদেরী জানান, অপারেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সার্জনরা কলে আসছে না। বেসরকারি ক্লিনিক সিএসসিআর’র পরিচালক ও বিশিষ্ট জেনারেল ও এন্ডোল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. মো. সানাউল্লাহ শেলী বলেন, ‘সিএসসিআরে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি অপারেশন হয়। এখন ধর্মঘটের কারণে কোন অপারেশন হচ্ছে না।’ অভিযুক্ত চিকিত্সকের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে এডভোকেট ইফতেখার সাইমুম চৌধুরী বলেন, মামলাটি যেহেতু আইনী প্রক্রিয়ায় চলে এসেছে তাই তারা আবার জামিন চাইতে পারতেন। জামিন দেয়া না দেয়া বিচারকের ব্যাপার।