চকরিয়ায় ৭২৮ একর খাস জমি প্রভাবশালীদের দখলে

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ২২:৪০
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী মৌজার কাকাড়াদিয়া এলাকায় সরকারের ৭২৮ একর খাস জমি গত আড়াই বছর ধরে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে জরবদখল করে রেখেছে। এসব জমি দখলের পর সংশ্লিষ্টরা লবণ ও চিংড়ি চাষাবাদ করে বছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও সরকার ওইসময়ে রাজস্ব হারিয়েছে কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, এসব জমি রক্ষণাবেক্ষণে জড়িত আগের কয়েকজন ইজারাদার তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন জমি নিজেদের অনুকূলে রাখার লক্ষ্যে উচ্চ আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে বেশ’কটি রিট মামলা দায়ের করেন। এ কারণে জেলা প্রশাসন ২০১০ সালে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এই জমি কাউকে নতুন করে লিজ (ইজারা) দিতে পারেনি। এই সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এ জমি দখলে নিয়ে শুরু করে অলিখিত লুটপাট। ২০১১ সাল থেকে এসব চিংড়ি জমি ভূমিহীনদের নামে নতুন করে লিজ নেয়ার জন্য একটি মহল জেলা প্রশাসনের কাছে নানাভাবে তদবির করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব চিংড়ি জমি ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও নীতিমালা লংঘন করে নতুন চক্রটি এসব জমি ইজারা (লিজ) নেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে চাপ প্রয়োগ করতে উপজেলার ভূমি কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ তুলে ভূমিহীনদের পক্ষে দায় এড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কজন ভূমিহীন ব্যক্তি দাবি করেছেন, কাকাড়াদিয়ার এসব জমি তাদের নামে লিজ পাইয়ে দেয়ার নামে আবেদন ফরম পূরণ করেন। ওইসময় সংশ্লিষ্টরা তাদের খরচের নামে কিছু কিছু টাকাও নেন। পরে জানা গেছে, চিংড়ি খাস জমি ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ দেয়ার সরকারি কোন নিয়ম নেই। এ অবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীরা উত্তোলনকৃত টাকা আত্মসাত করে এখন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও অফিসের বিরুদ্ধে দায় চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সূত্র জানায়, ২০১১ সালে ভূমিহীনদের নামে এসব জমি লিজ পেতে এলাকার লোকজন জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। পরে এব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বলা হলে তত্কালীন পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল মনছুরকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। বিষয়টি প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা আবুল মনছুর বলেন, চিংড়ি খাস জমি ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ দেয়ার সরকারি কোন নীতিমালা নেই। তারপরও তদন্তকালীন সময়ে বিষয়টি উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে জানানো হয়। তবে এব্যাপারে কমিটি কোন ধরনের সিদ্বান্ত না দেয়ায় তদন্তের কার্যক্রম বেশিদূর আগাতে পারেনি। চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন বলেন, উচ্চ আদালতে রিট মামলা থাকার কারণে কাকাড়াদিয়া এলাকার এসব চিংড়ি জমি উদ্ধারে সহসা পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।