চট্টগ্রামে ১৭শ’ কোটি টাকার রিং রোড নিয়ে জোর আপত্তি

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ২২:৪১
চট্টগ্রামে যানজট নিরসনে পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূল বরাবর রিং রোড প্রকল্পের কাজ শুরুর মুহূর্তে এ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম সমুদ্র উপকূলের বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণে আপত্তি তুলেছেন। তাদের মতে এতে বাঁধ ও সড়ক টেকসই হবে না। মঙ্গলবার পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আপত্তি জানানোর পর এ নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, হঠাত্ করে রিং রোড প্রকল্প নিয়ে আপত্তি তোলা ষড়যন্ত্রমূলক। গতকাল বুধবার সিডিএ’র সংবাদ সম্মেলনে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুছ ছালাম বলেন, রিং রোড প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে জাইকা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে রিং রোড প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০০৮ সালে যাচাই-বাছাই শেষে জাইকার অর্থায়নে অস্ট্রেলিয়ার স্ম্যাক নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ড্রয়িং ও ডিজাইনের কাজ শেষ হয়। গত মাসে সরকার একসাথে সাড়ে ৪শ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। এ বছর শেষের দিকে রিং রোড প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সিডিএ’র চেয়ারম্যান বলেন, আপত্তির বিষয়টি বিচারের জন্য জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম। মহানগরীর যানজট নিরসনের জন্য পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূল বরাবর সাগরিকা পর্যন্ত বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার ও জাইকার মধ্যে ২০০৮ সালে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রথমে ৮৫৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের জন্য ব্যয় করবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ করা হবে জাইকার অর্থায়নে। পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত দু’টি ফিডার রোডসহ সাড়ে ১৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মিত হবে। প্রকল্পটিতে প্রথমে ৪ লেন বিশিষ্ট সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে দুই লেনবিশিষ্ট সড়ক নির্মিত হবে। তবে বাঁধ চার লেন আয়তনের হবে। প্রথমে বাঁধ নির্মিত হবে এবং পরে সড়ক নির্মাণ করা হবে। বাঁধটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০ ফুট উচ্চ হবে। এ বাঁধের ওপর সড়কের আয়তন হবে ৮০ ফুট। এই সড়ক বরাবর কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে যে টানেল নির্মিত হবে তার সংযোগ সড়ক থাকবে। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের পক্ষে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণেরও বিরোধিতা করেছে। সিডিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন রিং-রোড প্রকল্পটি মূলতঃ চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা শিল্প এলাকা থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ও লরিসমূহ যাতে সহজে রিং রোড দিয়ে গিয়ে সাগরিকা রোডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠার জন্য গ্রহণ করা হয়। পরিকপ্লিত চট্টগ্রাম ফোরামের অন্যতম সদস্য ও চিটাগাং ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন বলেনঃ রিং-রোড প্রকল্পের নামে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে অতি জরুরি শহর রক্ষা বাঁধের কাজ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মিত হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। আমরা রিং-রোড প্রকল্পের বিরোধী নই। কিন্তু তা হতে হবে পরিকল্পিত উপায়ে। সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যানেও আমরা প্রস্তাবিত স্থানে রিং রোড প্রকল্প রাখা হয়নি। সিডিএ’র মাসব্যাপী কর্মসূচি : চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিমুক্ত ও পরিকল্পিত নগরী গড়ার শ্লোগান নিয়ে গণসচেতনতার জন্য মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সিডিএ’র পক্ষ থেকে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান, ভূমিকম্পসহনীয় ইমারত নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে পেশাজীবী এবং জনসাধারণকে অবহিত করার জন্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার, ট্রেনিং, চট্টগ্রামের সকল ওয়ার্ড, থানা, স্কুলভিত্তিক কর্মসূচি, রাজমিস্ত্রি, রড মিস্ত্রিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। শুক্রবার কর্মসূচির উদ্বোধন হবে।