নাম: বিশ্বনবীর মেরাজ শরীফ
মূল: মুফতি মোহাম্মদ শফী (রহ)
অনুবাদ : মাওলানা গোলাম মোস্তফা
প্রকাশক: আল আমীন চৌধুরী
প্রকাশনায়:চৌধুরী এন্ড সন্স,
৩৬ বাংলাবাজার, ঢাকা।
মূল্য: ২৫০ টাকা মাত্র
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা তাঁর প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ (স.) এর দ্বারা সংঘটিত করেছিলেন। যার নাম মেরাজ। এই রাতে অল্লাহ সুবহাননাহু ওয়া তায়ালা মুহাম্মদ (স.)কে মাটির পৃথিবী থেকে একে একে সাত আসমান পার করে একেবারে খাস দরবার আরশে আজিমে উঠিয়ে নেন। তখন হাবিব ও মাহবুবের মধ্যে সামান্য ব্যবধান ছিল। আর ঐ রাতেই তাঁকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রদান করা হয়। এই গ্রন্থটিতে রসূল (স.) এর জিবনীও উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেই সঙ্গে মিরাজের বিষয়ে সবিস্তারে আলোকপাত করা হয়েছে। রসূল (স.) এর মিরাজের ঘটনায় পূর্বের অবস্থা কেমন ছিল সেগুলি পেশ করা হয়েছে। যেমন রসূল (স.) বলেছেন, যে সময় আমার চাচা আমীর হামজা ও খাদিজা (রা.) এর ইন্তেকাল হয়েছিল। তার পর তায়েফের মানুষেরা রসূলের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করেছিল এবং তখন এমন অবস্থা বিরাজ করছিল যে, যেখানে তিনি যান সেখানেই কাফেরেরা তাকে নির্যাতনে জর্জরিত করেন। এটা ছিল রসূল (স.) এর ৬৩ বত্সরের জীবদ্দশায় সব চেয়ে কষ্টের সময়। রসূল (স.) ঐ সময়কে আমুল হুযন বা কষ্টের বছর বলে অভিহিত করেছিলেন। আর এই কষ্ট দূর করার জন্য এবং শরীয়তের কিছু বিষয় অবহিত করার জন্যই মূলত: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রসূল (স.)কে দিয়ে মেরাজ করে নিয়েছিলেন। এই গ্রন্থ হতে এ সমস্ত বিষয়গুলি বিস্তারিত জানা যাবে। তাছাড়া মিরাজের সূচনা উন্মে হানির ঘর থেকে বুরাকে চড়ে কাবার সম্মুখে। ওখানে দু’রাকায়াত নামাজ পড়ে বুরাকে চড়ে জেরুজালেমের সমজিদে আকসায়। সেখানে সমস্ত নবীদের নিয়ে ২ রাকায়াত নামাজ আদায়। তারপর ঊর্ধ্বালোকে নেয়া হয়। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো মানুষ যা কল্পনা করেনি তখন তাহাই সংঘটিত হয়। রক্ত-মাংসের কোনো মানুষ মধ্যাকর্ষণ শক্তির বাইরে ঊর্ধ্বাকর্ষণ শক্তির টানে ওপরে উঠতেই থাকেন। সাত আসমান পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহা, বায়তুল মামুর সেখান থেকে ৭টি সমতল মাঠ পেরিয়ে আল্লাহর একেবারে খাস দরবারে উপস্থিত হন। তখন নামাজসহ অনেকগুলো অধ্যাদেশ জারি করেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এরপর তাকে বেহেশত দেখানো হয়, দোযখ দেখানো হয়। বেহেশতের নাজ নেয়ামত দেখে রসূল (স.) বলেন, আল্লাহ ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য বেহেশতে এমন সব নেয়ামতরাজি সাজিয়ে রেখেছেন কোন চোখ তা কোনোদিন দেখেনি, কোন কান তা শুনেনি। জাহান্নামের বিষয়ে বলেন, জাহান্নামে এমন সব আজাবের ভয়ঙ্কর বস্তু দেখলাম কোনো ব্যক্তি যদি সে বিষয়ে অবহিত হয় তাহলে এই আজাব থেকে বাঁচার জন্য সে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। গ্রন্থটিতে এ সমস্ত বিষয়ে সবিস্তারে আলোকপাত করা হয়েছে।
—আবদুল আলিম আল আসাদ
