রিয়েলিটি শোগুলোতে অন্যের গান গেয়ে নিজেরা নাম করছি

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৩, ২০:৩০
মু খো মু খি মেহরাব। ক্লোজআপ ওয়ান রিয়েলিটি শোয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৫ সালে এ দেশের সংগীতাঙ্গনে আগমন হয় তার। এরপর অনেকগুলো মিক্সড অ্যালবামসহ তার একক অ্যালবাম প্রকাশ হয়। বেশ কিছু গান আলোচিত ও জনপ্রিয়ও হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তার নতুন কোনো অ্যালবাম বাজারে আসছে না। নিজের নতুন অ্যালবাম, সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন। সলো অ্যালবাম নিয়ে কাজ করছি, অ্যালবামটি প্রায় শেষের দিকে। এর পাশাপাশি একটি নতুন খবর হলো আজ থেকে এনটিভিতে উপস্থাপনা শুরু করলাম। ‘নব আলোকের গানে’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে ২০১২ সালের ক্লোজআপওয়ান শিল্পীরা গান করবে। এর পাশাপাশি নিয়মিত স্টেজ শো করছি। তবে এসবের মধ্যে একটি বড় কাজও করে ফেলেছি, নিজেরা একটি ব্যান্ড তৈরি করেছি। নাম রেখেছি ‘ক্লাবস’। এই ব্যান্ডের সবাই আমার বন্ধু। তারা হলেন ড্রামসে মুসা, গিটারে তারেক, বেজে তুষার, কিবোর্ডে অপু, ভোকাল ও গিটারে আমি। আমাদের ব্যান্ডের সব গানই ইংরেজি। তবে মৌলিক গান খুব শীঘ্রই শুরু করব। মজার বিষয় হলো আমরা সবাই দলনেতা, সবাই সদস্য। উপস্থাপনাটা কি নিয়মিত করার কোনো পরিকল্পনা আছে? সবে তো শুরু করলাম, যদি এই কাজটা উপভোগ করি তাহলে ভবিষ্যতেও করব। নিয়মিত করার ব্যাপারে অনুষ্ঠানের কনসেপ্টটা খুবই জরুরি, এটা ভালো হলে অবশ্যই করব। দীর্ঘদিন পর অ্যালবাম প্রকাশ হচ্ছে, এই বিলম্বের কারণ কী? নিজের কাজ আজ ভালো লাগলে, কাল মনে হয় আরও ভালো হবে, পরশু মনে হয় আরও একটু ভালো হবে। এভাবেই দেরি হয়ে গেল। আর সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর এখন পড়াশোনা করছি তো, এতেই বেশি সময় দিচ্ছি। অ্যালবামটি কবে নাগাদ বাজারে আসতে পারে? প্রায় সব গানই শেষ হয়ে গেছে। রিলিজের সময় এখনও ফিক্সড হয়নি। কথা চলছে, আগামী ছয় মাসের ভেতরেই রিলিজ দেব। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে, আর অ্যালবামের নাম রাখা হয়েছে ‘কাঁচা রোদের আলো’। রিয়েলিটি শো দিয়ে যারাই আসছেন তাদের অনেকেই তো হারিয়ে গিয়েছেন, আর যারা আছেন তারাও গানে ততটা সক্রিয় নন, এর কারণ কী বলে মনে হয়? আমি বলব যে, মৌলিক গানগুলো ভালো হতে হবে। যেমন আমরা রিয়েলিটি শোতে অন্যের গান গেয়ে নিজেরা নাম করেছি। কথার কথা, আমি মাইলসের গান গাইলাম, মাইলস যেই ফিল, গায়কী, ঢং দিয়ে গানটি গেয়েছেন, আমি সেটাকেই ফলো করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। নিজের একটা আলাদা গাওয়ার ভঙ্গি, গায়কীতে নিজস্বতা তৈরি করা দরকার। আমাদের রিয়েলিটি শো’তে বেশ ক’জনই আছেন যারা গলার মধ্যে নিজস্ব একটা টোন নিয়ে এসেছেন। আরও একটা বড় জিনিস নির্ভর করে কম্পোজারের উপরে। আমি নিজে কম্পোজ করছি, তাহলে ঠিকমতো হচ্ছে তো! অথবা যাকে দিয়ে বানাচ্ছি তারটা কতটুকু ভালো হচ্ছে, মনমতো হচ্ছে! বাজারে কী ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে! ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে। আবার গানের সাথে মিউজিক ভিডিওর একটা ব্যাপার চলে এসেছে ইদানীং, প্রপার মার্কেটিং ও প্রমোশনের বিষয় আছে। আমাদের অডিও মার্কেট যেহেতু পাইরেসিতে ভরা, তাই শিল্পী তার উপযুক্ত সম্মানী পাচ্ছে না। আর এই না পাওয়া থেকে সে এই পেশায় নিয়মিত চর্চাও করতে পারছে না। যারা মিউজিকে পড়াশোনা করছে, তারা এই পেশায় কোনো চাকরি পাচ্ছে না। এই নানা জটিলতার কারণেই অনেক শিল্পীই ঝরে যায়। রিয়েলিটি শোয়ের বিচারকদের অভিযোগ, শো থেকে জয়ী হওয়ার পর আপনারা গানের প্র্যাকটিসের বিষয়টি ভুলে যান, যে কারণে মিডিয়াতে ক্রমশ পিছে পড়ে যান। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী বলবেন? এটা অবশ্যই সঠিক। আসলে হয় কী মিডিয়ার কারণে বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কটা মেনটেইন করার ক্ষেত্রে বা ফ্রেন্ড মেনটেইন করার ক্ষেত্রে অনেক সময় এদিক ওদিক হয়ে যায়। আমি নিজেকে বিচার করেই বলছি। যখন প্রতিযোগী ছিলাম তখন খাওয়া-দাওয়া, গোসল, আর গান চর্চা বাদে অন্য কোনো কাজ ছিল না। যখন এটা শেষ হলো তখন আবার আড্ডাবাজি, ফেসবুকে একটু বেশি সময় দেওয়াসহ ফ্যানদের সঙ্গে সময় দেওয়া। আসলে একটা বড় কিছু অর্জন করার পর যে নিজেকে ছেড়ে দেওয়ার একটা বিষয়, সেটা চলে এসেছিল। আমার হয়েছিল বলেই আজ তাদের অভিযোগে সম্মতি জানাচ্ছি। প্রতিযোগিতার পর রাতজাগা, অস্থিরতা, স্বপ্নের বাড়াবাড়ি—এটা করব, ওটা করব; কিন্তু করতেই হবে এটা মনে থাকে না। আমরা যা নিয়ে স্বপ্ন দেখছি, সেই স্বপ্নের ছোটছোট ধাপগুলো আমরা স্কিপ করে যাই। যেমন নিয়মিত চর্চা করা, আরও ভালো করার চেষ্টা, সময়ের সাথে সাথে আমাদের প্রতিযোগিতাও বাড়ছে এদিকে খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। এসব আমি একটা পর্যায়ে এসে বুঝে উঠতে পেরেছি, এবং নিয়মিত চর্চায় মনোযোগী হয়েছি। আসলে গানে চর্চা ছাড়া কোনো গতি নেই। দেরিতে হলেও এটা সবাই বুঝবে।