নকশাল সন্ত্রাস রুখতে ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোকে একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। জানালেন, গণতন্ত্রে নকশাল সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। যে কোনো মূল্যে এই সন্ত্রাসকে আমরা রুখবো—খবর বর্তমান পত্রিকার।
ছত্তিশগড়ে সাম্প্রতিক মাওবাদী হানার তীব্র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, এই ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য বেশকিছু ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের এক সম্মেলনে তিনি বলেন, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে দলমত নির্বিশেষে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কীভাবে সেই কাজ হবে, তা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, দ্বিমুখী কৌশল নেয়া হচ্ছে। একদিকে নকশাল দমনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে পাশাপাশি মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের কাজ আরও বাড়ানো হবে।
মাওবাদী দমন করতে গিয়ে প্রায়ই সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিরীহ আদিবাসীদের মৃত্যু হয়। এই সমস্যা সামলাতে সরকার যে ভাবছে, তা জানান তিনি। বলেন, এই নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। নকশাল অধ্যুষিত এলাকায় মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, তার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে আগামী ১০ জুন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। নকশাল দমনে যে সাফল্য মিলেছে, তাতে ছত্তিশগড়ের ঘটনা যে একটা বড় ধাক্কা, তা স্বীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, সম্প্রতি নকশাল হামলার ঘটনা অনেকটা কমেছিল। হামলায় মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছিল আগের থাকে। কিন্তু ছত্তিশগড়ের ঘটনা সব হিসাব ওলোটপালোট করে দিল। এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন প্রমুখ। এদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ছত্তিশগড় থেকে তাড়া খেয়ে নকশালরা আশপাশের রাজ্যে ঢুকে পড়ছে। মধ্যপ্রদেশ থেকে এরকমই এক সন্দেহভাজন মাওবাদীকে ধরা হয়েছে। পুলিশের দাবি ১৭ বছরেরও এই কিশোর ছত্তিশগড়ের রাজানন্দগাঁওয়ের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে একটি পিস্তলও উদ্ধার হয়েছে।
