নিম্নমানের মবিলে সয়লাব উত্তরাঞ্চল

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৩, ২০:৫৬
প্রতারণার নতুন ফাঁদে এবার আটকা পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের মোটরযান মালিকরা। নিম্নমানের মবিল মোটর যানে ব্যবহার করায় অহরহ যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। কমছে ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল। ফলে বাড়তি ব্যয় মেটাতে মোটর মালিকরা পড়েছেন বিপাকে। প্রতারক চক্র দেশের নামিদামি ব্রান্ডের মবিলের ক্যানের আদলে তৈরি ক্যানে বিক্রি করছে নিম্নমানের মবিল। আর উত্তরাঞ্চলের বাজার ছেয়ে গেছে এই মবিল। সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নীলফামারীতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার অধিবাসি মো. শওকত আলী বাদি হয়ে গত ২৭ মে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতারক চক্রের হোতা কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামের অধিবাসি ফয়েজ আহমেদকে প্রধান আসামি করে ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলো—যথাক্রমে মোশফেকুর রহমান, মো. সাগর, নূরুল ইসলাম বাবুল, জসিম উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম খান শাহিন ও মো. শাহজাহান আলী। মামলার বাদি শওকত আলী অভিযোগ করে জানান, ওইসব ব্যক্তিরা ঢাকার ডানলপ লুব্রিকেন্ট (ইউপিএল) মবিলের ক্যানের আদলে তৈরি ড্যানলপ লুব্রিক্যান্ট (বিপিএল) নামে নিম্নমানের মবিল বাজারজাত করছে। পরিমাপেও তারা কম দিচ্ছে। এক লিটারের একটি মবিলের ক্যানে ২০০ মি.লি. মবিল কম দিয়ে তা বাজারজাত করা হচ্ছে। ক্যানের স্টিকারে ২০ ডব্লিউ ৫০ লেখা থাকলেও প্রকৃত অর্থে এইচডি ৫০ গ্রেডের মবিল ক্যানে ভরে অভিযুক্তরা উত্তরাঞ্চলের ১০ জেলার উপজেলাগুলোতে বাজারজাত করছে। নিম্নমানের মবিল তৈরিকারক প্রতারক হোতা ফয়েজ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ডানলপ লুব্রিকেন্টের (ইউপিএল) স্থানীয় পরিবেশক ফিরোজ সরকার জানান, নকলের ভিড়ে আসল মালের বাজারে টিকে থাকা দায় হয়েছে। এর ফলে সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।