বিদেশে অপরাধ করে ফিরলে দেশেই বিচার

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৩, ২১:৫০
বাংলাদেশি কোন নাগরিক বিদেশে অপরাধ করে দেশে ফিরে আসলে উক্ত অপরাধের জন্য দেশীয় আইনেই তার বিচার করা যাবে এমন বিধান রেখে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল ২০১৩ এর রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে সংসদীয় কমিটি। বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিলটি চূড়ান্ত করা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, হুইপ মির্জা আজম, মো. মুজিবুল হক চুন্নু, মো. হাবিবর রহমান, সানজিদা খানম এবং মো. সফিকুল ইসলাম অংশ নেন। পুলিশের আইজিপি, র্যাব’র মহা-পরিচালক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘে সমকালীন বিভিন্ন রেজুলেশন ও কনভেনশন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলোচনার আলোকে বিদ্যমান সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধিকতর সংশোধনের প্রস্তাব করে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল ২০১৩ নামে বিলটি গত সোমবার সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে স্পিকার এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করেন। বিলে বিদ্যমান আইনের দুই ধারা দফা-৩ এর পর ৩ (ক) দফা সন্নিবেশিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিদ্যমান আইনে বিদেশি নাগরিক বিষয়ে নতুন দফা, দফা-১৪ এর পরিবর্তে সম্পত্তি অর্থ শীর্ষক নতুন দফা ১৪ প্রতিস্থাপন এবং এরপর (১৪ক), (১৪খ), (১৪গ) ও (১৪ঘ)সহ ৬টি নতুন দফা সন্নিবেশিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিদ্যমান আইনে ধারা ৫-এর উপ-ধারা (২) নতুন উপ-ধারা (৩) সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন দফায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি কোন বিদেশি রাষ্ট্রে অপরাধ সংঘটন করে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে, যা বাংলাদেশে সংঘটিত হলে এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য হতো, তাহলে উক্ত অপরাধ বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং যদি তাকে উক্ত অপরাধ বিচারের এখতিয়ার সম্পন্ন কোন বিদেশি রাষ্ট্রে বহিঃসমর্পণ করা না যায়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে। বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ৬-এর পরিবর্তে সন্ত্রাসী কার্যকে সংজ্ঞায়িত করে নতুন ৬ ধারা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিদ্যমান আইনে ২০ক ধারার পরিবর্তে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ শীর্ষক নতুন ২০ক ধারা সন্নিবেশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান, তদন্তকালীন সন্ত্রাসী সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোকের বা বিশেষ বিধান এ বিলে সংযোজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিভিন্ন কনভেনশনসমূহ অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।