ফাইনালের মতো এক সেমিফাইনাল

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৩, ২১:৫৬
প্রায় দু’সপ্তাহ আগে রাফায়েল নাদাল এবং নোভাক জোকোভিচ যখন ফ্রেঞ্চ ওপেনের ড্রতে একই পাশে পড়লেন সেসময় থেকেই দুজনের দ্বৈরথের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে গত বুধবার দুজনেই নিজ নিজ খেলায় জিতলে গতবারের দুই ফাইনালিস্ট এবার শেষ চারেই মুখোমুখি হয়ে যান। অবশেষে টেনিস ভক্তদের সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছেন তারকাদ্বয়। অন্য সেমিফাইনালে ডেভিড ফেরার খেলবেন জো-উইলফ্রেড সোঙ্গার বিরুদ্ধে। ফ্রেঞ্চ ওপেনের ড্র অনুষ্ঠানের পর থেকেই দুজনের লড়াইকে মনে করা হচ্ছে সবচেয়ে ‘হাই প্রোফাইল’ ম্যাচ হিসেবে। আর সেটা কেনই বা হবে না? একজন রোলা গ্যারোর সাতবারের শিরোপাজয়ী, অন্যজন বর্তমানের বিশ্বসেরা। ‘রজার ফেদেরার বনাম নাদাল’ অধ্যায়ের অবসানের পর এই দুজনের লড়াই সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়ে আসছে। ফ্রেঞ্চ ওপেন বাদে অন্য তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ পাওয়া জোকোভিচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই কোন রাখঢাক না রেখেই ঘোষণা দেন, এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন হবে তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা ঘোচানোর লড়াই। আর সেই অতৃপ্তি ঘোচাতে হলে, জোকোভিচকে ছেদ টানতে হবে নাদালের রেকর্ডযাত্রায়। কারণ জোকোভিচের লক্ষ্য যেখানে ‘ক্যারিয়ার স্ল্যাম’ পূর্ণ করা, নাদালের দৃষ্টি লাল কোর্টে অষ্টম শিরোপা জিতে ম্যাক্স ডিসুজিসকে স্পর্শ করা। তাদের লড়াই যেখানে সমগ্র টেনিস বিশ্বকে দু’ভাগ করে ফেলছে, কোর্টের বাইরের সেই উত্তাপ হয়তো সামান্যই লাগছে ‘দুুই গ্লাডিয়েটরের’ গায়ে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কোর্টে র্যাকেট হাতে দারুণ বিধ্বংসী দুই জনই, আর কোর্টের বাইরে বরাবরের মতো এবারও দারুণ শান্ত তারা। কেউ কাউকে ফেভারিট হিসেবে মানতে নারাজ। তবে একটা ব্যাপারে দুজনেই একমত, দারুণ একটা ম্যাচই অপেক্ষা করছে সবার জন্য! এখন পর্যন্ত ৩৪টি ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে ১৫-১৯ ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন জোকোভিচ। আর আগের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পারছেন, দুজনের লড়াইয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে আপাত তুচ্ছ কোন ব্যাপার। জার্মান তারকা টমি হাসকে ৬-৩, ৭-৬(৭-৫), ৭-৫ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা জোকোভিচ সংবাদ সম্মেলনে জানালেন ম্যাচ নিয়ে তার ভাবনার কথা। এই সার্বিয়ান তারকা বলেন, ‘আমি এই ম্যাচটার দিকে তাকিয়ে আছি। তবে আমি প্রথমবারের মতো তার বিরুদ্ধে খেলছি না। আমরা ৩০ বারের বেশি পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছি। আমি নিশ্চিত, আমরা দুজনেই দুজনের খেলা সম্পর্কে ভালভাবেই জানি। এটা আসলেই এমনই। রোলা গ্যারোর ২০১৩ আসরে এটা দুজনের জন্যই সবচেয়ে বড় ম্যাচ। আমার মনে হয়, কে জিতবে সেটা খুব সূক্ষ্ম কিছু বিষয়ই নিশ্চিত করে দেবে। তাই নিয়মানুবর্তী এবং একাগ্র হওয়ার কোন বিকল্প নেই। (এমন ম্যাচে) আপনাকে শারীরিক, মানসিক সবদিক থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।’ মন্টে কার্লো মাস্টার্সের ফাইনালে নাদালকে হারিয়ে এ বছর নিজেদের একমাত্র লড়াইয়ে জয় পেয়েছেন জোকোভিচ। সার্বীয় খেলোয়াড়টির বিশ্বাস এই ব্যাপারটা ম্যাচে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে তাকে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন কোর্টে ঢুকবো তখন এই ব্যাপারটা আমাকে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখতে পারে। কারণ আমি জানি এ মৌসুমে তাকে আমি হারিয়েছি। আমি জানি আমি এটা করতে পারি। যদিও এই কোর্টে গত দশ বছরে খুব কম খেলোয়াড়ই সেটা করতে পেরেছে।’ তবে মন্টে কার্লোর ঐ হারটাকে মাথায়ই আনতে চাইছেন না নাদাল। টুর্নামেন্টের তৃতীয় বাছাই এই স্প্যানিশ তারকা বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের ইতিহাসই আলাদা। আমরা রোলা গ্যারাতে খেলতে যাচ্ছি, মন্টে কার্লোতে নয়। আমি বিশ্বাস করি এই কোর্ট এবং এখানে খেলার অনুভূতি আমার কাছে সবসময়ই কিছুটা হলেও আলাদা।’ তাই আজকের ম্যাচে নাদাল এগিয়ে রাখতে চাইলেন না কাউকেই, ‘আমি জানি সে এখানেও ভালোই খেলবে কারণ সেই এখন সেরা। তবে ভালো কিছু করার ব্যাপারে আমিও আত্মবিশ্বাসী।’ ‘নাদাল-জোকোভিচ’ দ্বৈরথে চাপা পড়ে যাওয়া আরেক সেমিফাইনালে নাদালের স্বদেশী ফেরার মুখোমুখি হবেন ‘লোকাল হিরো’ সোঙ্গার। এই ম্যাচে ভালো করার ব্যাপারে দুজনকে প্রেরণা যোগাতে পারে একটি তথ্য। ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে এর আগে খেলা হয়নি দুজনের কারোরই। তাই টেনিসপ্রেমিরা হয়তো চোখ রাখবেন এ ম্যাচের দিকেও।