বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৩, ২২:৩৫
সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মহাজোট সরকারের দেয়া বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। কেউ বলেছেন এটা জনতুষ্টির বাজেট। আবার কেউ বলেছেন বাজেটে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের উপর গুরত্ব আরোপ করা হয়েছে। তবে বাজেটের পূর্ণ বাস্তবায়ন যে কঠিন হবে তা স্বীকার করেছেন সবাই। রাজস্ব আদায়ের সাফল্য নিয়েও সন্দিহান। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার এই বাজেট দিয়েছে। এটা নির্বাচনী বাজেট, জনতুষ্টির বাজেট। বর্তমান সরকারের এই বাজেট আগের বাজেটের ধারাবাহিকতা। গুণগত কোন পরিবর্তন নেই এতে। বিশাল একটা বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বড় বাজেট নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই, তবে বড় কথাটি হলো বাস্তবায়ন। এই বাজেট বাস্তবায়ন করা কঠিন। বেসরকারি বিনিয়োগ কমে গেছে, বিদ্যুত্-গ্যাসের দাম বাড়তি, খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, কৃষি পণ্যের দাম কমবে - তাও না। রাজস্ব আদায় কঠিন হবে। ভ্যাট, ট্যাক্স বাড়িয়ে দিলে জনগণের কষ্ট হবে। তাই সার্বিকভাবে বলা যায়, এই বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে। গতবারের মতো এবারের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। সরকারতো চাপে আছে। চাপে পড়েই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। এতে সত্ ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়বে। অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী নির্বাচনী বছর হিসাবে বাজেটে সরকারের বেশকিছু উন্নয়নমালার ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। অবশ্য রাজস্ব বাজেটের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জুলাই থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সময় পাবে। বাজেটকে ঘিরে যে প্রত্যাশাটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব পায় তা হচ্ছে তার সঠিক বাস্তবায়ন। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে প্রবৃদ্ধির হার হবে সাত দশমিক দুই। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এবার এই প্রবৃদ্ধি কম হওয়া সত্বেও ভালই হয়েছে। কর্মসংস্থানের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির জন্য যেসমস্ত পদক্ষেপ গত চার বছরে গ্রহণ করা হয়েছিল, তা দেশের ব্যাস্টিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরো সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত করেছে। ঘোষিত বাজেটে যে বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের কথা বলা হয়েছে তা কতটুকু আদায় হবে সে ব্যাপারে সন্দিহান; কেননা আমাদের দেশে কর ঠিকমত না দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার আগামী বছরে ৭ শতাংশ হবে বলা হলেও নির্বাচনী বছরে এটা বজায় রাখা কষ্টসাধ্য হবে। কৃষিখাতের ভর্তুকি একটি ভাল উদ্যোগ। চলতি অর্থবছরেই দেখা গেছে যে, কৃষিখাতের ভর্তুকি এবং ব্যবস্থাপনার গুণগত মান উন্নত হওয়ায় কৃষিজীবীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে লাভবান হয়েছেন। অবশ্য পচনশীল কৃষিজাত দ্রব্য উত্পাদন করে হরতালের কারণে কোন কোন খাতে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষিজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে যেগুলো আমদানি হয় তার বিকল্প পণ্য দেশে উত্পাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের যে সমস্ত স্থানে তামাক উত্পাদন বেড়ে গেছে সেখানে কৃষি অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করে কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে যে ধস নেমেছে গত কয়েক বছর আগে, তা বর্তমানে দূর করার জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে এর বিক্রি বাড়াতে হলে সঞ্চয়পত্রে উেস কর কাটার বিধান প্রত্যাহার ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বিভিন্ন তফসিলী ব্যাংকের এফডিআর-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে ছেড়ে দিলে ভাল হয়। প্রতি বছর দেশ থেকে প্রচুর অর্থ চিকিত্সাজনিত কারণে বিভিন্ন দেশে মেডিক্যাল ট্যুরিজমের আওতায় বেরিয়ে যাচ্ছে। এই অব্যবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা থাকা দরকার। এজন্য স্বাস্থ্য খাতে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহ ও হাসপাতালসমূহকে কাজ করার জন্য সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা ও সহায়তা বাজেটে থাকা দরকার ছিল। জাতীয় বাজেট যদিও এক বছরের তথাপি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা প্রয়োজন। দরিদ্র দেশ হিসাবে জাতীয় বাজেট যদি ব্যালেন্সড বাজেট হয় তবে ভালো হয়। আর যারা বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিপক্ষে বলেন, এই টাকা সাদা করার ব্যবস্থা না থাকলে দেশ থেকে অর্থ পাচার বেড়ে যাবে এবং ইনফর্মাল সেক্টর অনুত্সাহিত হয়ে পড়বে। সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো যেতে পারে। কেননা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানো দরকার। কেননা জনসংখ্যা অনুপাতে পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা অপ্রতুল্য ও আধুনিকায়ন করা দরকার।