গত বুধবার গাজীপুরের সোয়েটার কারখানার পাঁচ শতাধিক শ্রমিক পানিবাহিত ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণে অসুস্থ হননি। গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তারা। অসুস্থতার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল গতকাল বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া প্র্রতিবেদনে এটি উল্লেখ করেছেন। এদিকে অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকরা এখন সুস্থ আছেন। গতকাল তারা কাজে যোগ দিয়েছেন।
বুধবার গাজীপুর সদরের ভোগড়া চৌধুরী বাড়ী রোডে লাবীব গ্রুপের স্টার লাইট সোয়েটার্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা পানি পান করে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে মালিক পক্ষ কারখানায় সরবরাহকৃত পানি পান না করার জন্য মাইকযোগে শ্রমিকদের সর্তক করে দেয়। এ ঘোষণায় শ্রমিকরা আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আশপাশের গার্মেন্টসগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। শত শত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে থাকে। ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনে করে শ্রমিকদের গাজীপুর সদর, টঙ্গী হাসপাতাল, উত্তরা বেসরকারি হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অসুস্থ শ্রমিকরা হাসপাতালে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই খবরটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।
ঘটনার পরপরই মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যান। তারা কারখানার পানির নমুনা সংগ্রহ করেন ও অসুস্থ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিত্সকদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ দলটি কথা বলে। বিশেষজ্ঞ দলটি দেখতে পায় অসুস্থ বেশির ভাগ শ্রমিকের উপসর্গ ছিল বমি, মাথা ব্যথা, গলা জ্বালা-পোড়া ও পেটে পীড়া। তারা নিশ্চিত হন, শ্রমিকরা পানিবাহিত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণে অসুস্থ হননি। তারা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন প্রচণ্ড গরম ছিল। কারখানার ভেতরে গরমে প্রথমে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারখানার পানি পান করে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতেই শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মনরোগ বিজ্ঞানী ডা. মোহিত কামাল বলেন, কারখানায় সাধারণত এক সঙ্গে অনেক শ্রমিক কাজ করে। একজন শ্রমিক অসুস্থ বলাতে অন্য শ্রমিকের মধ্যেও অসুস্থতার ভাব শুরু হয়। এটা এক ধরনের গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ। পানি পান করে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণে তারা অসুস্থ হননি। সম্প্রতি নরসিংদীর একটি স্কুলে কয়েকশ শিশু একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখানেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।
আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, গাজীপুরের ওই সোয়েটার কারখানা থেকে সংগৃহীত পানির নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পেতে কয়েক দিন সময় লাগবে। তবে আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলটি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে, মনস্তাত্ত্বিক রোগেই শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ শ্রমিকদের সবাই ওই দিনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কেউ হাসপাতালে নেই বলে তিনি জানান।
