শিরোনাম পড়ে অনেকেই হয়তো খানিকটা চমকে উঠেছেন। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে যে ইমেইল সেই ইমেইল কিভাবে মানসিক চাপ বাড়াতে পারে সে নিয়ে কৌতুহলীও হয়তো হয়ে উঠছেন কেউ কেউ। তবে ইমেইল নিয়ে আমাদের ছোটখাটো অস্বস্তি কিংবা ব্যস্ত কোনো অফিস কর্মীর ইমেইল ঠিকানায় একের পর এক আসতে থাকা ইমেইলগুলো যে পক্ষান্তরে একজন মানুষের মানসিক স্থিরতাকে বিঘ্নিত করতে পারে সেটি সম্প্রতি এক গবেষণার মধ্য দিয়েই প্রমাণ করে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এই গবেষণার অংশ হিসেবে তারা সবমিলিয়ে ৩০ জন সরকারি কর্মকর্তার দৈনন্দিন কার্যকলাপ নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাদের অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ইমেইল সেবার সাথে কর্মীদের পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টিও লক্ষ করা হয়। এতে দেখা যায় জরিপে অংশ নেওয়া সরকারি কর্মচারিদের মধ্যে শতকরা ৮৩ শতাংশই ইমেইল সংক্রান্ত কারণে বাড়তি দুশ্চিন্তা, রক্তচাপ ও মানসিক চাপের মতো সমস্যা মোকাবেলা করছেন। বিশেষ করে কোনো একটি কাজ করার সময় গুরুত্বপূর্ণ অন্য কোনো ইমেইলের নোটিফিকেশন আসা, দ্রুত ইমেইল ইনবক্স পূর্ণ হয়ে যাওয়া এবং ইমেইলের উত্তর দেওয়ার চাপ অনুভবের মতো বিষয়গুলো এসব সরকারি কর্মচারিদের মাঝে মানসিক চাপের জন্ম দেয়। এ প্রসঙ্গে গবেষকরা জানান, স্বভাবতই একটি কাজ করার সময় অন্য কোনো কাজের উপস্থিত মানুষের মাঝে মানসিক চাপ তৈরি করে। ফলে যাদের ইনবক্সে ক্রমাগত বিভিন্ন ধরনের ইমেইল আসতে থাকে তারা খুব সহজেই এগুলোর গুরুত্ব বা প্রাধান্য নির্ধারণ করতে হিমশিম খান। যদিও যেসব কর্মী তাদের ইনবক্সটিকে নানা ধরনের প্রয়োজন, প্রাধান্য বা ইমেইল প্রেরকের নামানুসারে আগে থেকেই সাজিয়ে রাখেন বা সঠিকভাবে নিজেদের ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনার কাজটি করেন তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের মানসিক চাপের পরিমাণটিও তুলনামূলক কম হয়।
