উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির দর্শনকে সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বৃহস্পতিবার ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন। এটি বর্তমান মহাজোট সরকারের পঞ্চম তথা শেষ বছরের বাজেট। এটি একটি অনন্য ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, যেখানে সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। আকার ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে প্রস্তাবিত বাজেট একটি ব্যতিক্রমী উন্নয়ন পরিকল্পনা। ২ লক্ষ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার এই বাজেট চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার চেয়ে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব অর্থায়নে ৮ হাজার ১১৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সারণী থেকে দেখা যায় যে, বর্তমান সরকার প্রতি বছরই উচ্চাভিলাষী বাজেট দিয়েছে। পাঁচ বছরে বাজেট আড়াই গুণ বেড়েছে। এডিপি বরাদ্দ তিনগুণ বেড়েছে। দেশের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এ অভিলাষকে বাস্তবে পরিণত করার ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত সফল হয়েছে। বিশাল ব্যয় মেটানোর জন্য প্রতি বছরই রাজস্ব আয় বেড়েছে এবং চার বছরে এ আয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। লক্ষণীয় দিক হচ্ছে, বরাদ্দ বেশি হলেও উন্নয়ন কর্মসূচির প্রায় ৯২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের সময় বাস্তবায়ন হার কম ছিল। যেমন, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দের ৮৩ শতাংশ এবং ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৮৩ দশমিক ৮ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। বিগত চার বছর ক্রমবর্ধমান বরাদ্দের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হওয়ায় দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৬ শতাংশের অধিক অর্জিত হয়েছে। গড় অর্জন ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। বিশ্বমন্দার এ কঠিন সময়ে বিশ্বের খুব কম দেশেই এমন প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। চীন ও ভারত উচ্চ প্রবৃদ্ধি হার ধরে রাখতে পারলেও তাদের প্রবৃদ্ধি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেশ দুইটিতে ধনী-গরিব বৈষম্য বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশে তেমনটা হয়নি। বরং টেকসই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটি প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তাই বাজেটে আগামী বছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি নির্বাচনী বছর। এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঝামেলা নেই। ফলে তাদের তিন মাস এবং পুরোনো ও নতুন সরকারের শেষ ও শুরুর তিন মাস কর্মে শৈথিল্য আসার সম্ভাবনা নেই। এডিপি বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। তাই আগামী বছরটিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বেই। হরতাল ও রাজনৈতিক সহিংসতা না থাকলে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আয়-ব্যয়ে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা ঘাটতি আছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরেও ৪৯ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, যা ছিল জিডিপি’র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থাকছে জিডিপি’র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে থাকাটা একটি আদর্শ অবস্থা। তাই এই ঘাটতি সামষ্টিক অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরাবরের মতো আগামী বছরেও ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে এই বাজেট ঘাটতি মেটানো হবে। অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে ৩৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হবে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা নেয়া হবে। বৈদেশিক সাহায্য থেকে নেয়া হবে ২১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সঞ্চয়ের হার ২৯ দশমকি ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার ক্ষেত্রেও সরকার বেশ সফল হয়েছে। অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনো অর্থনীতিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে। ভারত, ব্রাজিল ও চীনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি হার এর প্রমাণ। বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু সরকার মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সংস্কার করে। বিলাস সামগ্রী আমদানিকে নিরুত্সাহিত করে। ফলে মূল্যস্ফীতি আবার ৭-৮ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি হার ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশেষ করে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে। সেক্ষেত্রে আবারও সংরক্ষণমূলক মুদ্রানীতি চালু করতে হবে।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ বাদে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এডিপি ব্যয় হবে ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের প্রায় ৬৩ শতাংশ সরকার নিজস্ব আয় থেকে যোগান দেবে। অবশিষ্ট ৩৭ শতাংশ প্রকল্প সাহায্য বাবদ পাওয়া যাবে বলে সরকার আশা করছে। আগামী বছরের এডিপিতে ১ হাজার ৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এরমধ্যে ৫০টি নতুন প্রকল্প। অবশিষ্টগুলো চলমান প্রকল্প। এবারের এডিপিতে বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার ঋণচুক্তি বাতিল করে। জাইকা, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রথা অনুযায়ী বিশ্বব্যাংককে অনুসরণ করে তাদের প্রায় ১১০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে। সরকার তাই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা সরকারের পক্ষে সহজ নয়। সরকার তাই চার বছরে সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর ফলে পরিবহন খাত সর্বাধিক বরাদ্দ পেয়েছে। মোট বরাদ্দের ২৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ অর্থই ব্যয় করা হবে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিদ্যুত্ খাতে। চলতি বছরের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশী। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। এর দরকারও ছিল। এর আগের পাঁচ বছর দেশে কোনো বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়নি। সঞ্চালন লাইনও নির্মাণ করা হয়নি। কিন্তু চাহিদা বেড়েছে বছরে ৮-১০ শতাংশ হারে। এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের সর্বত্র মারাত্মক লোডশেডিং-এ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তাই বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। ইতোমধ্যেই ৩৮৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। সরকার কয়লা ও গ্যাস-ভিত্তিক বড় বড় বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী অর্থবছরে বিদ্যুত্ খাতে বরাদ্দের একটা বড় অংশ ব্যয় হবে বিদ্যুত্ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন নির্মাণে। আগামী এডিপিতে শিক্ষা খাতে ৮ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা চলতি বছরের বরাদ্দের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশী। এতে শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। আগামী অর্থবছরেও পল্লী উন্নয়নে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ খাতে ৬ হাজার ৬২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১০ শতাংশের অধিক। দেশব্যাপী বিভিন্ন অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা ও আবাসন খাতে ৫ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। বন্যা দূরীকরণ এবং সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, নদী খননের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা রক্ষা এবং আবাদযোগ্য জমি পুনরুদ্ধার, সরকারি কর্মচারীদের আবাসনসহ বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। যা মোট এডিপি বরাদ্দের ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সরকার এরই মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সরকার জেলা হাসপাতালগুলোতে আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে যাতে সব ধরনের রোগীর চিকিত্সা জেলা পর্যায়েই করা যায়। কৃষিখাতে ৩ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণকে উত্সাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাজে সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে কৃষি, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতসহ মোট ভর্তুকি ব্যয় হয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এ বছর সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া জ্বালানি এবং বিজ্ঞান ও আইসিটি খাতেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কর-বহির্ভূত আয়কে জরিমানা নিয়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা আগামী বাজেটেও রাখা হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো জেলা বাজেট পেশ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা দিয়ে এটি শুরু হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও কার্যকরতা বাড়বে।
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল আছে। গত চার বছর ধরেই স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ন আছে। আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওর’স চলতি বছরও বাংলাদেশের ঋণমান গত তিন বছরের ন্যায় “বিবি মায়নাস” বহাল রেখেছে। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের চেয়েও বাংলাদেশের ঋণমান অবস্থা ভাল। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বহিঃখাতের ইতিবাচক ধারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)’র গত এপ্রিলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১২ সালে বিশ্ব বাণিজ্য মাত্র ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। যদিও ২০১১ সালে তা ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এজন্য তারা ইউরোপের অর্থনীতির মন্থরতাকেই দায়ী করেছে। এর ফলে বিশ্ব চাহিদা হ্রাস পাওয়া অব্যাহত রয়েছে। ২০১৩ সালে বিশ্ব বাণিজ্য ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০১২ সালে বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারও হ্রাস পেয়েছে। মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১১ সালে তা ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশ্বের অন্যতম সফল দুই অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হারও ২০১২ সালে কমেছে। চীনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১১ সালে তা ছিল ৯ দশমিক ২ শতাংশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি ২০১২ সালে হয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১১ সালে ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের উপরে আছে এবং তা আগের বছরের চেয়ে কমেনি। বিশ্ব রপ্তানি বাণিজ্যে ২০১২ সালে “শূন্য” প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এশিয়ায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যদিও ২০১১ সালে বিশ্বে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রায় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বিশ্ব আমদানি বাণিজ্যেও ২০১২ সালে “শূন্য” প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এশিয়ায় ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১১ সালে বিশ্বে আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৯ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে আমদানিতে ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিলাসসামগ্রী আমদানি ব্যাপকভাবে কমেছে। কিন্তু মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়নি। এ ধারা ভবিষ্যত্ অর্থনীতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সরকারি বিনিয়োগ বাড়া সত্ত্বেও বেসরকারি বিনিয়োগের ভাল প্রবৃদ্ধি না হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি মন্থর হবে। বেকার সমস্যা বাড়বে। তবে এ অবস্থাকে বেশ ভালভাবেই মোকাবেলা করছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত। প্রতি বছর ৬ লক্ষের বেশী মানুষ চাকুরী নিয়ে প্রবাসে যাচ্ছে। তার চেয়েও বড় সাফল্য এসেছে রেমিটেন্স আসার ক্ষেত্রে। ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বৈদেশিক সহায়তা ছাড়েও ২০১২-১৩ অর্থবছরে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ১৮১ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার ছাড় হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ১৪১ কোটি ডলার। এসব কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। মে মাস শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। বেলেন্সে অব পেমেন্টে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত আছে। সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য বিমোচন ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বেশ সাফল্য এসেছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বরাদ্দ প্রতি বছরই বেড়েছে। ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ২০০৮ সালে ৬৩০ ডলার থেকে ৯৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকার পূরণে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন এখন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে।
সার্বিক বিশ্লেষণে প্রস্তাবিত বাজেট দেশের চলমান উন্নয়নকে আরও গতিশীল লক্ষ্যে প্রণীত একিট আর্থিক দলিল। এই গণমুখী বাজেট প্রদান তখনই স্বার্থক হবে যখন এর পূর্ণ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এর জন্য বাস্তবায়ন এজেন্সীকে আরও তত্পর হতে হবে। বছরের প্রথম দিন থেকেই সময়ভিত্তিক টার্গেট নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের উন্নয়ন-বিরোধী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত থাকতে হবে। রাজনীতি ও উন্নয়নকে মুখোমুখি দাঁড় করালে জনগণ তা ক্ষমা নাও করতে পারে।
সারণী : বর্তমান সরকারের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন চিত্র (কোটি টাকা)
অর্থবছর (প্রস্তাবিত) ২০০৮-০৯ ২০০৯-১০ ২০১০-১১ ২০১১-১২ ২০১২-১৩ ২০১৩-১৪
মোট বাজেট ৯৪,১৪০ ১,১০,৫২০ ১,৩০,০১০ ১,৬৩,৫৯০ ১,৮৯,৩২৬ ২,২২,৪৯১
এডিপি (প্রকৃত ব্যয়) ১৯,৪৩৮ ২৮,৫০০ ৩৫,৮৮০ ৪১,০০০ ৫৭,১২০ ৭৩,৯৮৪
রাজস্ব আয় ৬৯,১৮০ ৭৯,৪৮৪ ৯৫,১৮৮ ১,১৮,৩৯০ ১,৩৯,৬৭০ ১,৬৭,৪৫৯
জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার (%) ৫.৭৪ ৬.০৭ ৬.৭১ ৬.৩২ ৬.৪ (সাময়িক) ৭.২
