হ-য-ব-র-ল অবস্থা চলছে পর্তুগালের অর্থনীতিতে। মহামন্দার চাপে পড়ে খেই হারিয়ে ফেলেছে লিসবন সরকার। সেন্ট্রাল-রাইট প্রধানমন্ত্রী পেড্রা পাসোস কোয়েলহো আগামী তিন বছরে সরকারি ব্যয় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন সম্প্রতি। এই কৃচ্ছ তা সাধন প্যাকেজ অনুসারে ছাঁটাই করা হবে ত্রিশ হাজার সরকারি কর্মচারীকে; অবসরের সর্বনিম্ন বয়স উন্নীত হবে ৬৬ তে (্এখন হচ্ছে ৬৫); সাপ্তাহিক কর্মঘন্টাকে ৩৫ থেকে বাড়িয়ে করা হবে চল্লিশ। এখানেই শেষ নয়, এতাদিন যে বার্ষিক ছুটি ছিলো ২৫ থেকে ৩২দিন, সেটিকে কমিয়ে করা হবে ২২দিন। কিন্তু বিরোধী দলগুলো এবং ইউনিয়ন নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সব ঘোষণাকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রধান বিরোধী দল এরই মধ্যে আগাম নির্বাচন দাবি করেছে। এতেও দমে যাননি পেড্রো পাসোস কোয়েলহো। তিনি ইউনিয়ন ও বিরোধী দলসমূহের নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। পেড্রা পাসোস বলছেন, সরকারি ব্যয় না কমালে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ইউরো জোন থেকেই বেড়িয়ে পড়া লাগতে পারে পর্তুগালের, আর এমন হলে অর্থনীতিতে নেমে আসবে মহাদুর্যোগ। পরিকল্পনামাফিক তার কৃচ্ছ্রতা সাধন প্যাকেজ কার্যকর হবে আগামী জানুয়ারি থেকে, আর তখনই অর্থনীতি ফিরবে প্রবৃদ্ধির ধারায়। লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক পেড্রা সি.ম্যাগালহায়েস পর্তুগালের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘হতাশা থেকেই অবিশ্বাস কাজ করছে দেশের অধিকাংশ মানুষের মনে। যে কারণে সরকাওে কোনো প্রতিশ্রুতির উপরই তারা ভরসা করতে পারছে না। সরকার তার বর্তমান পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। এর আগেও সরকার অনেক সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছে।’ আসল তথ্য হলো— আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের বাতলে দেয়া ফর্মুলা আনুসরণ করে বর্তমান পর্তুগিজ সরকার ক্রমাগতই যেনো কোমরবন্ধ আঁঁটসাঁট করার নীতি গ্রহণ করেছে। অর্থনৈতিক উত্তরণের জন্য ৭৮ বিলিয়ন ইউরোতে পুরস্কৃত করার পেছনে জুড়ে দেয়া হয়েছে নানা শর্ত। যেগুলো না মেনে উপায় নেই কোয়েলহো’র। এ নিয়ে সোশাল ডেমোক্রেটদের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারেও টানাপড়েন চলছে। কৃচ্ছ্রতা সাধনের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সোচ্চার রয়েছে সে দেশের বিরোধী দলগুলো।
