গরমে ত্বকের যত্ন

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ১৯:৫৭
মানুষ মাত্রই সুন্দর, সুস্থ আর চকচকে ত্বক প্রত্যাশা করে। কিন্তু গরমে এই ত্বক হয়ে যায় তেলতেলে, ঘামযুক্ত। এতে ত্বক তার চাকচিক্য হারায়। একটু খানি পরিচর্যা গরমে আমাদের ত্বককে সমস্যামুক্ত রাখতে পারে। ত্বকে আদ্রতা রক্ষা করতে হবে প্রচন্ড গরমে ঘামের মাধ্যমে ত্বকের আদ্রতা কমে যায়। এই সময় প্রচুর পানি খাওয়া দরকার। এছাড়াও প্রয়োজনে ফলের রস, লেবুর রস এবং খাবার স্যালাইনও পান করা যেতে পারে। সুষম খাদ্য গ্রহণ খাদ্যতালিকায় শর্করা বেশী রেখে আমিষ আর চর্বি জাতীয় খাবার কমালে ভাল। প্রচুর সবুজ শাক-সবজী, গাজর, লেটুস, সালাদ খাওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন এক কাপ খাটি দুধ পান শরীর থেকে তাপ কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত গরম এবং ঝাল জাতীয় খাদ্য বর্জন শ্রেয়। মৌসুমী ফল গ্রহণ গরমের সময় প্রচুর মৌসুমী ফল খাওয়া যেতে পারে যেমন- তরমুজ, আম, বাংগী, আঙ্গুর। এসব সরাসরি ত্বকের পুষ্টি যোগায় এবং ত্বকের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। রোদ বর্জন করুন রোদে যাবার পূর্বে সানস্ক্রীন গায়ে মাখতে পারেন। ছাতা, ক্যাপ ও সানগ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বক পরিষ্কার রাখুন গরমে সহনীয় মাত্রার ফেসওয়াশ অথবা হালকা সাবান নিয়ে মুখ হাত ধোয়া প্রয়োজন। এতে ত্বক জীবানুমুক্ত ও ঠান্ডা থাকে। বাহির থেকে আসার পর পরই মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন। হালকা ময়শ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। কাজের সময় টিসু্যু অথবা নরম রুমাল দিয়ে অতিরিক্ত ঘাম এবং তেল মুখ থেকে ঘনঘন মুছে ফেলতে হবে। লেবুর শরবত খান গরমে লেবুর শরবত হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য এক চমত্কার পানীয়। শরবতে একটু লবণ ও চিনি মিশিয়ে নিন। চিনি শক্তি জোগাবে, আর লবণ পূরণ করবে আপনার শরীর থেকে ঘামের সাথে বেরিয়ে যাওয়া লবণের অভাবটুকু। লেবুতে থাকে ভিটামিন সি। এই গরমে ভিটামিন সি ফিরিয়ে দেবে আপনার লাবণ্যতা। ঘরটাকে ঠাণ্ডা রাখুন লোডশেডিংয়ের ঝামেলায় দুঃসহ গরমে আপনার ঘর ঠাণ্ডা রাখার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। দরজা-জানালায় সাদা রঙের পর্দা টানান, যাতে বাইরে থেকে ঢুকতে না পারে সূর্যের তীব্র আলো। মেঝেতে ঠাণ্ডা পানি ঢালুন। পর্দাগুলোও ভিজিয়ে দিন পানি দিয়ে। আপনার ঘরের মাথার ছাদেও পানি ঢালার ব্যবস্থা করুন। ছাদের ওপরে ছাদজুড়ে শামিয়ানা টানিয়ে নিন। চুলের পরিচর্যা হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথার চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত দাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। গরমে জাম কাপড় হালকা, ঢিলেঢালা, সুতি কাপড় পড়া উত্তম। এতে ত্বকে বাতাস ঢুকে ত্বককে ঠান্ডা রাখে। প্রসাধনী অতিরিক্ত প্রসাধনী বর্জন করুন। প্রসাধনী ব্যবহারের পর ভাল করে ত্বক পরিষ্কার করুন। প্রসাধনী সামগ্রী ত্বকে এলার্জী সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও নিয়মিত পরিমিত খাদ্যগ্রহণ, প্রয়োজনীয় ঘুম, নিয়মিত গোসল, সুস্থ মানসিক অবস্থা ইত্যাদিও ত্বকের পরিচর্যায় বিভিন্নভাবে সাহায্য করে থাকে। মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে ওজু করার মাধ্যমে ত্বকের পরিচর্যার সুযোগ রয়েছে। পরিশেষে বলতে হয়, ত্বক শরীরের সবচেয়ে বড় অংশ। ত্বকের মাধ্যমেই আমাদের সৌন্দর্য্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সামান্য সচেতনতাই আমাদের ত্বককে রাখতে পারে ক্ষয়মুক্ত এবং আকর্ষণীয়।