সিলেটে প্রচারণায় রথী-মহারথীরা

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২০:৩৯
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে ভোট চাইতে দেশ-বিদেশের সিনিয়র নেতা-কর্মীরা আসছেন সিলেটে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র ও কাউন্সিলার পদপ্রার্থীদের আত্মীয়-স্বজনরাও আসছেন প্রবাস থেকে। তারা প্রতিনিয়ত খোঁজ নিচ্ছেন সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পর্কে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরাবরের মত প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় আসছে রাশি রাশি ডলার-পাউন্ডও। সিসিক নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে আজ শুক্রবার সকালে এসেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর প্রভাবশালী দুই সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমদ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমপাদক ও বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। গতকাল সারাদিন সিলেটে অবস্থান করে তারা গণসংযোগ ও নির্বাচনী পথসভায় বক্তৃতা করেন। বিকালে নেতৃবৃন্দ কাজীটুলায় এবং পরে কদমতলী মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে আনারস মার্কার পক্ষে পৃথক নির্বাচনী পথসভা ও গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন। কয়েকদিনের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড.এম ওসমান ফারুক ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শিগগিরই সিলেট আসবেন। দলের বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান মেয়র প্রচারণায় অংশ নিতে সিলেট আসছেন বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের সাবেক উপদেষ্টা ইনাম চৌধুরী ও সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া, ডা:শাখাওয়াত হোসেন জীবন সিলেটে ১৮ দল প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে গণসংযোগ করছেন। ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় নেতা শমশের মবিন চৌধুরীও কয়েকবার সিলেটে এসে প্রচারণায় যোগ দিয়ে গেছেন। যুক্তরাজ্য থেকে যুবলীগের অন্যতম নেতা মো. সেলিম আহমদ আজ দেশে আসছেন ১৪ দল সমর্থিত কামরানের সমর্থনে গণসংযোগ ও সভায় যোগ দেয়ার লক্ষ্যে। ‘কখনোই নগরবাসীকে শাসনের চেষ্টা করিনি’ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সদ্য বিদায়ী মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, আমি মেয়র থাকাকালে নগরবাসীর সেবা করেছি। কখনোই নগরবাসীকে শাসনের চেষ্টা করিনি। মধ্যরাতে কারো বাড়ির দেয়াল ভাঙ্গিনি। আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বুঝিয়ে রাস্তা বড় করেছি। সেবার জন্য এসে আমার কাছ থেকে কেউ খালি হাতে ফিরেছেন- এমন নজির নেই। বৃহস্পতিবার নগরীর সাদারপাড়া, পশ্চিম তেররতন, জালালাবাদ আবাসিক এলাকা, ফাজিলচিন্ত, পীরমহল্লা ও নয়াসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে কামরান আরও বলেন, মানুষের সেবা করার জন্যই আমার জন্ম হয়েছে। তাই ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে আমি মানুষের কাজে নেমেছি। যতদিন জীবিত থাকবো আমি সিলেটবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করতে সিলেটবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে কামরান নগরীর উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের বিবরণ তুলে ধরেন। গণসংযোগকালে তার সঙ্গে ছিলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব সিরাজ বক্স, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, লাহিন চৌধুরী, শিমুল চৌধুরী, প্রবাসী নেতা আনা মিয়া, এটিএম হাসান জেবুল, জগলু চৌধুরী প্রমুখ। শবে মেরাজের জন্য কামরানের মাইকিং বন্ধ পবিত্র শবে মেরাজের জন্য বৃহসপতিবার সিলেট নগরীতে মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের আনারস প্রতীকের পক্ষে মাইকিং বন্ধ রাখা হয়। শবে মেরাজের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখা, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়, নফল রোজা পালন, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং জিকির আজকারের সুবিধার্থে নগরীতে প্রচার কাজ বিশেষ করে মাইকিং বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছেন নাগরিক কমিটির নেতারা কামরানকে জাকের পার্টির সমর্থন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী, সদ্য বিদায়ী মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সমর্থন দিয়েছে জাকের পার্টি। গতকাল জাকের পার্টির সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির এক সভায় আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে বিজয়ী করতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানানো হয়। সর্বসম্মতিক্রমে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মোস্তফা আমির ফয়সল মোজাদ্দেদীর নির্দেশনায় কামরানকে সমর্থন দেয়া হয়েছে বলে জানান বক্তারা। আরিফকে খেলাফতের সমর্থন ১৮ দলীয় জোট মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থনে বৃষ্টিতে ভিজে গণসংযোগ করলেন খেলাফত মজলিস নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার বাদ জুমা দরগাহে হযরত শাহজালাল(র.) মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে তারা গণসংযোগ শুরু করেন। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাসউদ খান ও সাংগঠনিক সমপাদক মুহাম্মদ মুনতাসির আলী এতে নেতৃত্ব দেন।