দিনাজপুরের রাজবাড়ী ৬৬ বছর পরিত্যক্ত ১৬৬ একর জমি উন্নয়নের দাবি

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২১:০০
দিনাজপুর মূল শহর থেকে ৪ কি:মি: উত্তর-পূর্বে সরকারের নজরদারিতে প্রকৃত অর্থে টানা ৬৬ বছর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকা দিনাজপুর মহারাজা রাজবাড়ীর ১৬৬ একর মূল্যবান সম্পত্তি ভুয়া দলিল দস্তাবেজের দাপটে বেহাত হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রায় ৪শ’ বছর ধরে গড়ে ওঠা এবং ১১ নৃপতির পর্যাক্রমিক শাসনের দিনাজপুর রাজবংশের অবসান ঘটে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তিতে। প্রথম রাজা শুকদেবের, সময় কাল ১৬৪০-১৬৭৭ সাল। রাজ পরিবারের শেষ নৃপতি মহারাজা গিরিজা নাথ। সর্বশেষ জমিদার বিলুপ্তি আইন জারীর পর রাজ সম্পত্তি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রকাশ, দক্ষ জনবল সংকট এবং সরকারি নীতি না থাকায় রাজ সম্পত্তি পুরোপুরি এবং সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের অধীন কর্মরত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শুরু থেকেই রাজ এস্টেটের দায়িত্ব তাও শুধু নামে। জানা যায়, ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে রাজবাড়ীর যাবতীয় মূল্যবান অস্থাবর সম্পত্তি যেমন রাজ পরিবারের ব্যবহূত গহনা, মন্দির বিগ্রহের অলঙ্কার, রূপা, তামা ও তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, মোটরযান এবং রূপার তৈরি অস্ত্রশস্ত্র সৌখিন সামগ্রী প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রির পরেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে রাজবাড়ী। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দামী দুর্লভ সব আসবাব বার্নিস নেবার প্রবণতায় রাজবাড়ীর ধ্বংস প্রক্রিয়া শুরু হয়। পঞ্চাশের দশকে নতুন রাণীমহলে ইপিআর পরে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের অফিস ও শেষে সমাজ সেবা বিভাগের একটি শাখা অফিস খোলা হলেও এরা রাজবাড়ীর স্বার্থ সংরক্ষণে ছিলেন উদাসীন। ষাটের দশকের শেষার্ধে মূল রাজবাড়ীর পূর্ব প্রবেশ পথে অপরিকল্পিতভাবে সরকারি শিশু সদন নির্মাণ করা হয়। অধুনা সেখানে একটি ছোট্ট বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছে। রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এখতিয়ারে শুধু মাত্র রয়েছে কালিয়া কান্তজীউ মন্দির আর দূর্গা মন্দির চত্বর। বাকীটা দৃশ্যত: পেশী শক্তির নিয়ন্ত্রণে।