প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সংসদে বিএনপি যে মুলতবি প্রস্তাব নিয়েছিল সেটি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু অধিবেশনের প্রথম দিন তারা সেই মুলতবি প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়ে আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে জাতির সামনে বিএনপি প্রতারণা করেছে। আলোচনার আর কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিশ্বের সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতোই আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে অন্তত একবার এ ধারাবাহিকতা শুরু করতে হবে। এবার আমরা তা করবোই। এর কোন ব্যত্যয় ঘটবে না। সংঘাতের পথ পরিহার করে সমঝোতার পথে আসার জন্য তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল শুক্রবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে বিষয়ে আলোচনার জন্য মুলতবি প্রস্তব দিয়েছিল, সংসদীয় কার্য প্রণালী বিধিতে সে বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব দেয়ার সুযোগ নেই। তারপরও আমরা সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এ বিষয়ে আলোচনা হবে। স্পিকারকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছিলাম বিষয়টি কার্য প্রণালী বিধিতে যুক্ত করতে এবং দিন ঠিক করে যেন আলোচনার সুযোগ দেন। স্পিকার সম্মতও হয়েছিলেন। আমরা আলোচনায় প্রস্তুতও ছিলাম। আমরা রাজি হয়েছি এ খবর পেয়েই তারা তাদের দেয়া মুলতবি প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। আসলে তারা কী চায়? সংঘাত পরিহার করে নির্বাচনে আসার জন্য তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, অবশ্যই এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে বড় বাজেট। যে বাজেট আমরা দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা আমরাই রাখি। গত চার বছরে আমরা তার প্রমাণ দিয়েছি। প্রতিবারই আমরা এডিপিসহ বাজেটের ৯২-৯৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছি। তিনি বলেন, বাজেট অবশ্যই রাজস্ব খাতের ওপর নির্ভরশীল। কারণ আমরা নিজেরা আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। যারা এটা নিয়ে সমালোচনা করছে তারা চায় সারাজীবন পরের কাছে হাত পেতে চলতে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় তো দেশে জরুরি অবস্থা ছিল, তারপরেও তারা দেশের জন্য কিছুই করতে পারেনি। এক সেট উপদেষ্টা আসে, ব্যর্থ হয় পদত্যাগ করে। তিন মাসের জন্য আসা এ সরকার এক পর্যায়ে স্থায়ীভাবে বসে যাওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। সংবিধান প্রণেতা বলে দাবিদার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন ওই সময় বললেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার রোজ কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবে। আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে এ ধরনের কথা বলা হয়েছিল। তাদের মুখে এখনো পনের/ষোল শুনতে হয়। তবে জনগণের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলা দেখতে চাই না। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে হেফাজতকে সাথে নিয়ে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনের দোকানগুলোয় কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে; এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, হেফাজতকে সরাতে কোন মানুষ হত্যা করা হয়নি। বরং সেখানে পুলিশ হত্যা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশের সব কিছু অর্জন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, মহত্ অর্জনের জন্য মহত্ ত্যাগ দরকার। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার মধ্যে ছিল মুক্তির সনদ ও অধিকার। লাহরে ছয় দফা প্রস্তাব করে সাহসী ভূমিকা জাতির পিতা নিয়েছিলেন বলেই পরবর্তীতে আমরা স্বাধীন হতে পেরেছিলাম। জেল-জুলুমকে বঙ্গবন্ধু কখনোই ভয় পেতেন না। একাত্তরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলছিলেন, তখনই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, নূহ-উল-আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি প্রমুখ।
