গুঁড়া দুধের দাম আগেই বেড়েছে এক দফা। আরেক দফা বাড়ল বাজেট পেশের পর। বাজেটে গুঁড়া দুধ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী এখনই সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই নিয়ে গত এক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন ব্রান্ডের গুঁড়া দুধ প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
তবে প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার পরের দিন সবধরনের নিত্যপণ্যের বাজারে যেমন ‘আগুন আগুন’ ভাব থাকে, এবার তেমন ঘটেনি। কেবল ‘আগুনভাব’ বিরাজ করছে কাঁচাবাজারে। গত কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টির জন্য রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। কাঁচা সবজির পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির তালিকায় আরো আছে পিঁয়াজ ও খোলা আটার দাম। গতকাল শুক্রবার বাজেট পেশের পরদিন রাজধানীর কাওরানবাজার ও নিউমার্কেটসহ কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এই চিত্র-ই পাওয়া যায়।
গুঁড়া দুধের দাম :সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর হিসাবে গত এক মাস আগে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত ড্যানো গুঁড়া দুধ ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকা, ডিপ্লোমা (নিউজিল্যান্ড) ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা, ফ্রেশ ও মার্কস ৪৬০ থেকে ৪৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিন্তু গতকাল বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত ড্যানো গুঁড়া দুধ ৬১০ থেকে ৬১৫ টাকা, ডিপ্লোমা (নিউজিল্যান্ড) ৬১০ থেকে ৬২০ টাকা, ফ্রেশ ও মার্কস ৫১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ প্রসঙ্গে কাওরানবাজারের ভাই ভাই জেনারেল স্টোরের একজন বিক্রেতা বলেন, গুঁড়া দুধের কোম্পানিগুলো দাম বাড়ায়, তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজেট ঘোষণার আগের দিন ও পরেরদিন প্রতি কেজি গুঁড়া দুধের দামের ব্যবধান ৫ থেকে ১০ টাকা। গতকাল কাওরানবাজারে বাজার করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতা আমজাদ কবির বলেন, ব্যবসায়ীরা কেবল সুযোগ খোঁজে। বাজেট প্রস্তাব করতেই ব্যবসায়ীরা গুঁড়া দুধের দাম বাড়িয়েছে। এছাড়া সরকারই-বা কেন গুঁড়া দুধের দাম বাড়াচ্ছে তা বুঝতে পারছি না।
কাঁচাবাজারে আগুন :বৃষ্টির ফলে সরবরাহ কম—এমন অজুহাতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বেড়েই চলেছে। ৩০ টাকা কেজির নীচে কোন সবজিই নেই। এরমধ্যে করলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বেগুন ও ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল, লতি ও কাঁকরোল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ও শশা ৩০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, কচুরমুখি ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা, ঢেঁড়স ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও কাঁচামরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে সবজিভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে খোলা আটা ও পিঁয়াজের। কেজিতে ২ টাকা বেড়ে গতকাল বাজারে দেশি পিঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৪ টাকা ও আমদানিকৃত পিঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি খোলা সাদা আটা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ২৮ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মসুর ডাল ও সয়াবিন তেলের দাম। খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১০৬ থেকে ১০৮ টাকা, পামঅয়েল ৭২ থেকে ৭৫ টাকা, ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৩২ থেকে ১৩৫ টাকা ও ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৬৫৫ থেকে ৬৭০ টাকায় বিক্রি হয়।
