খুঁড়িয়ে চলছে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক কলেজ

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২২:৪০
জনবল সংকটের কারণে দেশের একমাত্র সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ খুঁড়িয়ে চলছে। যেখানে প্রয়োজন ১২৭ জন শিক্ষক, সেখানে আছে মাত্র ২৭ জন। অনেক শিক্ষককে আবার কলেজ সংলগ্ন ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালেও কাজ করতে হয়। এছাড়া রয়েছে চিকিত্সকসহ অন্যান্য পদেও জনবলের সংকট। এসব সংকটের কারণে রোগীর সেবা ও শিক্ষাদান কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর এ কলেজে ইউনানি এবং আয়ুর্বেদিক বিষয়ে ২৩ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। শিক্ষাজীবন শেষে তাদের চাকরির সুযোগও থাকে কম। এ কারণে শিক্ষার্থীরা এখন আর এ বিষয়গুলোতে শিক্ষাগ্রহণে ততটা আগ্রহী নয়। ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. রাহিমা আক্তার খাতুন বলেন, আমাদের সব সমস্যার মূল কারণ জনবলের অভাব। কলেজ ও হাসপাতাল মিলিয়ে ১৭২টি পদের জন্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার নিয়োগবিধি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তেমন সুফল পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে একাধিক শিক্ষক জানান, কলেজটি প্রথমে সরকারের প্রকল্প হিসাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব খাতে চলে গেলে শিক্ষক ও চিকিত্সক সংকট দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটিতে ১২টি ক্লিনার পদ থাকলেও মাত্র একজন ক্লিনার এবং তিনজন আয়া ও ওয়ার্ডবয় আছেন। এদিকে হাসপাতালটির রেডিওলজি, ইমাজিং এবং গাইনি ও সার্জিক্যাল বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ চিকিত্সক এবং জনবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে। এ বিভাগগুলোয় সবধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও রোগীরা ইসিজি, আলট্রাসাউন্ড প্রভৃতি টেস্ট থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। শিক্ষকরা জানান, সমপ্রতি বিভাগগুলো চালু করতে চিকিত্সক এবং অপারেটর চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সংশিষ্টসূত্রে আরো জানা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং আন্ত:বিভাগে মেডিক্যাল অফিসারের সংকট তীব্র। জরুরি বিভাগে কমপক্ষে চারজন ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার প্রয়োজন। সেখানে মাত্র একজন মেডিক্যাল অফিসার রয়েছেন। যার কারণে জরুরি বিভাগ নামে থাকলেও কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। অন্যদিকে কলেজে আবুল কাশেম নামে শুধু ছেলেদের জন্য একমাত্র হল থাকলেও মেয়েদের জন্য আবাসিক হল নেই। উত্পাদন ও গবেষণাগারই ছাত্রী হল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছাত্রীরা উত্পাদন ও গবেষণাগার ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি স্বতন্ত্র এবং আধুনিক উত্পাদন ও গবেষণাগার থাকা সত্ত্বেও অপারেটর এবং দক্ষ শিক্ষকের অভাবে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, আন্ত:বিভাগ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। ডাক্তার সংকট, অপারেশন বিভাগ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতির অপারেটর সংকটে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রমের ওপর রোগীদের আস্থা কম বলে জানান একাধিক রোগী। এ কারণে প্রতিবছর মাত্র ৪৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় বলে কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে এই কলেজের প্রভাষক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান।