সিটি নির্বাচন :সন্ত্রাসী রুখতে খুলনায় ১৬ নিরাপত্তা চৌকি

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২২:৪১
খুলনা মহানগরীর ১৬টি প্রবেশদ্বারে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। পুলিশ সেখানে তল্লাশি না করে কাউকে শহরে ঢুকতে দিচ্ছে না। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ এই উদ্যোগ নিয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো: শফিকুর রহমান জানান, খুলনা মহানগরীতে প্রবেশের ১৬টি পয়েন্ট রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। কাউকে তল্লাশি না করে শহরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বাইরে থেকে শহরে এসে কেউ যাতে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। তারপরও প্রবেশদ্বারগুলো বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। যাতে কোনো সন্ত্রাসী শহরে ঢুকতে না পারে, সেজন্যই এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিগুলোর প্রত্যেকটিতে একজন এসআই অথবা এএসআই এবং তিনজন কনস্টেবল পালাক্রমে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া মোবাইল টিম প্রতিনিয়ত এ সকল এলাকায় টহল দেবে। উল্লেখ্য, খুলনার পাশের জেলা যশোর থেকে পথেরবাজার, সাতক্ষীরা থেকে গল্লামারী, বাগেরহাট থেকে খানজাহান আলী সেতু ও রূপসা ফেরিঘাট এবং নড়াইল থেকে জেলখানাঘাট দিয়ে শহরে ঢুকতে হয়। এছাড়াও নগরীতে আরো ছোট কয়েকটি প্রবেশ পয়েন্টসহ মোট ১৬টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। নগরীতে নিরাপত্তা বলয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের (কেসিসি) আর মাত্র ৬ দিন বাকি। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন তত্পর হয়ে উঠেছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে ৭ প্লাটুন বিজিবি ও ৫শ’ র্যাব সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। র্যাব-৬ এর একটি সূত্র জানায়, কেসিসি নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের ৫শ’ সদস্যস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে থেকে এবং ভোটের পরের দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর দস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। ভোট কেন্দ্রের বাইরে যাতে কোন গোলযোগ সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকেও এই বাহিনীর বিশেষ নজর থাকবে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গোয়েন্দা তত্পরতাও বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য, বিস্ফোরক দ্রব্য বিধ্বংসী স্কোয়াড এবং ডগ স্কোয়াডও নিয়োজিত থাকবে। র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ড থাকবে ৩ প্লাটুন। ১৩ জুন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী খুলনা নগরীর ৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩১টি ওয়ার্ডে টহল দেবে। মাইকিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তাল গোটা খুলনা মহানগরী। মাইকিং, পোস্টার ও লিফলেট বিলি করে নগরীতে পুরোদমে চলছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। ভোটযুদ্ধে জিততে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে নগরবাসীর কাছে বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইকিং। নারী-পুরুষের দ্বৈতকণ্ঠে তিন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তৈরি করেছেন চটকদার নির্বাচনী বিজ্ঞাপন। মাইক বাজিয়ে এই সব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। আবার কর্মী-সমর্থকরা মাইকে জোরালো শব্দে প্রার্থী ও তাদের প্রতীকের নামে বিভিন্ন চটকদার শ্লোগান দিচ্ছে। দুপুর ২টা থেকে একটানা গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর অলি-গলিতে চলছে মাইকে প্রচার-প্রচারণা। মাইকিংয়ের শব্দ ও শ্লোগানের যন্ত্রণায় নগরবাসীর কান ঝালাপালা অবস্থা। নগরীর সিমেট্রি রোড ও শামসুর রহমান রোডের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মাইকের শব্দ ও শ্লোগানে দোকানদারীতে বেশ ঝামেলা হচ্ছে। আর কয়েকদিন গেলে এ যন্ত্রণার হাত থেকে রক্ষা মিলবে। এ ব্যাপারে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী বলেন, ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রতীক জানান দিতে মাইকিং একটি কার্যকর পদ্ধতি। আর সে কারণেই তারা মাইকিংয়ের প্রতি বেশি নজর দিয়েছেন।