৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে না

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২২:৪২
আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান বাস্তবতায় অর্জনযোগ্য নয়। বাজেট মূল্যায়নে গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ এ কথা জানিয়েছে। বিনিয়োগ মন্দাবস্থাকে প্রবৃদ্ধির প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদান বাড়াতে হবে। অথচ বর্তমানে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় পুঁজি বহির্গমনের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন অন্বেষণ মনে করে, চলতি অর্থবছরে সরকার প্রয়োজনের তুলনায় বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ জিডিপিতে বিনিয়োগের অংশ ৩০ শতাংশ হারে বেড়ে ২৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছলেও বেসরকারি বিনিয়োগ গত অর্থবছরের তুলনায় কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিস্তর পার্থক্য। ২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশে। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ক্ষমতার অপূর্ণ ব্যবহার নির্দেশ করে। মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের বছরে সরকারের সুযোগ সন্ধানী নীতির প্রমাণ ইতোমধ্যে থোক বরাদ্দের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের ৪২৩ কোটি টাকা থেকে থোক বরাদ্দ ৩৪৬ শতাংশ হারে বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে ১ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। উন্নয়ন অন্বেষণ বর্তমান সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে আর্থিক ও রাজস্বনীতির মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের সুপারিশ করছে। কারণ, সংকোচনমূলক নীতি বিনিয়োগ চাহিদা কমিয়ে উত্পাদন হ্রাস করছে। ফলে প্রবৃদ্ধি যেমন ব্যাহত হচ্ছে, কর্মসংস্থানের উপরও চাপ পড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, রাজস্ব ভারসাম্যে উন্নতির জন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার করা প্রয়োজন। এছাড়া কর কাঠামোর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, কর নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি এবং ফাঁকি রোধের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও শক্তিশালী করতে হবে।