আর্থিক কাঠামো দুর্বল বাস্তবায়নযোগ্য নয়

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২২:৫৩
২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটকে পরাবাস্তব বাজেট বলে আখ্যায়িত করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিসটিংগুইশড ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, এবারের বাজেটের সবচেয়ে দুর্বলতম দিক হচ্ছে আর্থিক কাঠামো। এখানে উচ্চ রাজস্ব আয় ও ব্যয় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা করা সম্ভব হবে না। ফলে মধ্যবর্তী সময়ে এই বাজেট পরিমার্জন করারও প্রয়োজন হতে পারে। গতকাল বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সাংবাদিক সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, রিসার্চ ডাইরেক্টর ড. ফাহমিদা খাতুন, এডিশনাল রিসার্চ ডাইরেক্টর খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, তৌফিকুল ইসলাম খান এবং ফারজানা সেহরীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী দুই বছরও বিশ্বমন্দার প্রভাব বহাল থাকবে, এর মধ্যে আগামী অর্থবছরে রফতানির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ। সামপ্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বিশ্বে বাংলাদেশ নিয়ে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হলেও বৈদেশিক সহায়তা ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। রাজস্ব আদায় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তাও উঁচু। বাজেট ঘাটতিও শতাংশের বিচারে বেশি নয়। শেষ পর্যন্ত এসব লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হলে মঙ্গলই হবে। তবে এসব উচ্চাকাঙ্ক্ষার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘাটতি নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যে আয় ও ব্যয় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে তার কোনোটিই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে না। ফলে ঘাটতি সীমার মধ্যেই থাকবে। তবে ঘাটতি অর্থায়নে যে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে বলে ধরা হয়েছে তা গত বছরের তুলনায় ২২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এটা কতটা আদায়যোগ্য তা ভেবে দেখতে হবে। এদিকে নন ব্যাংকিং খাত থেকেও ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে চলতি বছরের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। ফলে ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অনেক বেড়ে যেতে পারে। যা ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগের উপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া উচ্চ অঙ্কের ব্যাংক ঋণের ফলে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বর্তমানে মোট ব্যয়ের সাড়ে ১২ শতাংশই যাচ্ছে এ খাতে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল। লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এতে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছানোর পথ আরও দীর্ঘায়িত হয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের প্রক্ষেপণকে দুর্বল উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, গত বছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে ২৪ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এ ধরনের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা আদায় করা কতটা গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। নির্বাচনের বছরে এবং ধারাবাহিকতার বাইরে গিয়ে এ ধরনের উচ্চ রাজস্ব আদায় করা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অনুন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উন্নয়ন ব্যয় সম্পন্ন হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তবে উন্নয়ন ব্যয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পকে যুক্ত করায় অন্য খাতের বরাদ্দের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, মিশ্র অর্থায়নের মাধ্যমে পদ্মা সেতু করা না হলে বছর বছর এডিপি থেকে বরাদ্দ দিয়ে পদ্মা সেতু করা ঠিক হবে না। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এই সুযোগ নৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই সমর্থনযোগ্য নয়। পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এর মাধ্যমে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে সাভার ট্র্যাজেডির প্রেক্ষিতে কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ না দেয়া এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় অর্থমন্ত্রী কোনো কথা না বলা হতাশাজনক।