অগ্রণী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি সত্য বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। সরকারি এ ব্যাংকের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঘটনার যাচাই ও দোষীদের শনাক্ত করতে আগ্রহী নয়। তারা তদন্ত কমিটিকে কোন ধরনের সহযোগিতা করছে না। সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছে এবং ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রে গৃহীত পরীক্ষা থেকেই পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। গত বুধবার অগ্রণীব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এবিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত ৩১ মে বিকালে অগ্রণী ব্যাংকের জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। ফাঁস প্রশ্নেই পরীক্ষা গ্রহণ করে ব্যাংক। ব্যাংক চেয়ারম্যান এবং পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বশীল একাধিক সদস্য বলেছিলেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি তারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১০-১৫ মিনিট আগে জানতে পারেন। তখন পরীক্ষা স্থগিত করার কোনো উপায় ছিল না। তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। ২ জুন তদন্ত কমিটি গঠন করে পরীক্ষা কমিটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু হেনা রেজা হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে দুই-তিন দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়। গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত তদন্ত কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া ছাড়া অন্য কোনো কাজই শুরু করতে পারেনি।
কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইছে। তাই তারা কমিটিকে সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। তদন্তকাজেও কমিটিকে কোন সহযোগিতা করছে না। আনুষ্ঠানিক কোন চিঠিও দেয়নি কমিটিকে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে একটি বৈঠকও করেনি। গতকাল তাদের পরিচালনা বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তদন্ত কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সত্যতা পেলেও এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা কিংবা কিভাবে ফাঁস হলো তা উদঘাটন করতে পারেনি। এজন্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু সে ধরনের কোনো সহযোগিতা তদন্ত কমিটি পাচ্ছে না। ব্যাংকে নির্বাহী কমিটিকে পাশ কাটিয়ে পরিচালনা কমিটি ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে বলেও একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবু হেনা রেজা হাসান বলেন, তদন্তের কাজ চলছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ফাঁস হওয়া যে প্রশ্নপত্র পাওয়া গিয়েছিল তার সাথে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের শতভাগ মিল পাওয়া গেছে। ফাঁস হওয়ার ব্যপারে কোন সন্দেহ ও অস্পষ্টতা নেই।
