প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের কাছে কি তার জীবনসঙ্গীর চাইতে সেলফোনই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে? আঁতকে ওঠার মতো সত্য হলেও এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যেয়ে অধিকাংশ নারী বা পুরুষের কাছে তাদের সঙ্গীর চাইতে সেলফোনের প্রাধান্যই বেশি বলে মত দিয়েছে ব্রিটেনের খ্যাতনামা মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও-টু। আর সেলফোন তথা হাল আমলের নানা স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রতি মানুষের এই পক্ষপাত ও তাদের জীবনাচরণে মোবাইলের বিভিন্ন অনুষঙ্গের বিস্তৃতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে ব্রিটেনে ও-টু’র পরিচালিত এক জরিপের মধ্য দিয়ে। এতে দেখা যায়, কোনো নারী বা পুরুষ তার স্বামী বা স্ত্রীকে সময় দেন দৈনিক গড়ে ৯৭ মিনিট। অন্যদিকে একজন পুরুষ বা নারী তার মোবাইল ফোন ব্যবহারে দৈনিক গড়ে ব্যয় করেন ১১৯ মিনিট। আবার গড়পরতা স্মার্টফোনের ইউজাররা তাদের সেলফোনটিকে যে ধরনের কাজে ব্যবহার করেন জরিপের মাধ্যমে সে সম্পর্কেও একটি ধারণা দিয়েছে ও-টু। তারা জানিয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষেরা তাদের স্মার্টফোনে দৈনিক গড়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কমপক্ষে ২৪ মিনিট, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটের পেছনে ১৬ মিনিট, গান শোনেন ১৫ মিনিট এবং গেমস খেলে ব্যায় করেন প্রায় ১৩ মিনিট। অন্যদিকে সেলফোনের অন্যতম প্রধান ব্যবহার যে ফোনকল সেই ফোনকলের জন্য গড়ে প্রতিদিন ব্যয় হয় মাত্র ১৩ মিনিট ও বার্তা পাঠানো বা পড়ার জন্য ব্যয় হয় গড়ে ১১ মিনিট। কাজেই সঙ্গীর চাইতে হালে সেলফোনের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার এই বিষয়টির পেছনে স্মার্টফোনের ইন্টারনেট অপশন ও এসব ফোনের মাধ্যমে সহজে সামাজিক যোগাযোগের সাইটের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া বা বিনোদনের অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টিকেই প্রধানত দায়ী করেছেন জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণকারীরা। এ ছাড়া এই একই জরিপের মধ্য দিয়ে মানুষের সেলফোন নির্ভরতার কারণে ঝুঁকির মুখে থাকা অপর কিছু যন্ত্রসেবার কথাও উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ সেলফোন ইউজারই জানিয়েছেন যে, সেলফোনের সাহায্যে সহজেই সময় দেখা যায় বলে তাদের শতকরা ৫০ ভাগই এখন আর কোনো ধরনের ঘড়ি ব্যবহার করেন না। অন্যদিকে একই সুবিধার কারণে ঘুম থেকে উঠতে অ্যালার্ম ঘড়ির সাহায্য নেওয়াও বন্ধ করেছেন শতকরা ৫০ ভাগ সেলফোন ইউজার। আবার কোনো উত্সবে বা আয়োজনে ছবি তোলার জন্যও এখন শতকরা ৪৭ ভাগ লোক তাদের স্মার্টফোন বা ফোনের ক্যামেরা দিয়েই কাজ চালিয়ে নেন।
