শেষ মুহূর্তে সিলেট বিএনপিতে জোড়াতালির চেষ্টা

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৩, ২১:৫৩
সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে সিলেট বিএনপিতে চলছে জোড়াতালির চেষ্টা। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষকেও কাছে টানার চেষ্টা করছেন। নিজ দলের যাদের সাথে বছরের পর বছর মুখ দেখাদেখিও বন্ধ ছিল তাদের বাসায় গিয়ে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে একসাথে কাজ করার অনুরোধ জানাচ্ছেন। বিশেষ করে সিলেট বিএনপির ইলিয়াস অনুসারীদের সাথে তার দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে আপাত বিরতি দিয়ে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে চাচ্ছেন। তবে নির্বাচনের পরে আরিফুলের এই ‘নমনীয় নীতি’ কতটুকু থাকবে তা নিয়ে সন্দিহান ইলিয়াস অনুসারীরা। তাদের অনেকেই মনে করছেন, জয়-পরাজয় যাই হোক, নির্বাচনের পরই পুরনো রূপে ফিরবেন আরিফুল। ইলিয়াস অনুসারীদের সাথে তার যে বিরোধ তা এত সহজে মিটবার নয়। এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইলিয়াস অনুসারী নেতা বলেন, বিগত জোট সরকারের সময় সাইফুর রহমানের আশীর্বাদে আরিফুল হক চৌধুরী- ইলিয়াস আলী ও তার অনুসারীদের অনেক নাকানিচুবানি খাইয়েছেন। ইলিয়াস অনুসারী নেতা সামসুজ্জামান জামানকে দল থেকে বহিষ্কার করে চরম হেনস্তা করেছেন। আরিফুলের এসব অতীত কর্মকাণ্ড ইলিয়াস অনুসারীরা কোনদিনই ভুলবে না। এদিকে কোন্দলে টুকরো টুকরো সিলেট বিএনপিকে জোড়া লাগিয়ে আরিফুলের পক্ষে মাঠে নামাতে শুরু থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বিএনপির আরিফুলের শুভাকাঙ্ক্ষী গ্রুপ। সিলেটে মেয়র পদে আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, নাসিম হোসাইন ও সামসুজ্জামান জামান প্রার্থী হলে কেন্দ্রীয় বিএনপি বিপাকে পড়ে। পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চার প্রার্থীকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে আরিফুলকে সমর্থন দেন এবং অপর তিনজনকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে আরিফুলের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন। সিলেটে ফিরে ওই তিন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন এবং পংকী ও নাসিম আরিফুলের নির্বাচনী প্রচারণায় মাঝেমধ্যে অংশ নেন। তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সামসুজ্জামান জামান নীরব থাকেন। তাই জামান ও তার অনুসারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামাতে আবারো সক্রিয় হন আরিফুল ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দফায় দফায় যোগাযোগ করা হয় কেন্দ্রীয় বিএনপির সাথে। পাশাপাশি চলে জামানের সাথে সমঝোতার চেষ্টা। তবে জামানের ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানান, সমঝোতার প্রশ্নে জামান কিছু শর্ত জুড়ে দেন আরিফুলকে। এরমধ্যে প্রথমত ছিল নিখোঁঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সাথে অতীত কৃতকর্মের জন্য তার (ইলিয়াসের) স্ত্রীর কাছে গিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে আরিফুলকে। ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে আরিফুলকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। এসব শর্তের বেড়াজালে পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা বাদ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার আরিফুল ঢাকার বনানীর ‘সিলেট হাউজে’ গিয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনার সাথে দেখা করেন। তিনি ‘ইলিয়াস আলীর সাথে তার অতীতের ভুলভ্রান্তির’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর স্ত্রীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় আরিফুলের সাথে ছিলেন বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী, আবেদ রাজা, ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। সিলেটে ফিরে গত শুক্রবার আরিফুল হক চৌধুরী ছুটে যান এডভোকেট জামানের শিবগঞ্জ ব্রাম্মণপাড়াস্থ বাসায়। দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর সাক্ষাত্ ঘটে দুই নেতার। এসময় বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আরিফুল প্রথমেই এডভোকেট জামানের মাকে পা ছুঁয়ে সালাম করে দোয়া চান। এরপর তিনি জামানকে বুকে জড়িয়ে ধরে অতীতের ভুলভ্রান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এখন থেকে একসাথে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে আরিফুল বলেন, সিলেটবাসীর প্রিয় নেতা এম. ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এডভোকেট জামানও সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নির্বাচনে আরিফুল হকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী, ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, এডভোকেট আবেদ রাজা চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ মকছুদ আলী, সোনা মিয়া, এডভোকেট আশিক উদ্দিন প্রমুখ।