অধিকাংশ প্রস্তাব এড়িয়ে পাস হচ্ছে বন আইন

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৩, ২২:১৭
জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে বন আইন সংশোধন বিলটি পাস হচ্ছে। বন আইন আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করা হলেও রিপোর্টে তার প্রতিফলন নেই। ফলে আইনটি সংশোধনের লক্ষ্য কতটা অর্জিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ১৯২৭ সালের বন আইনকে সংশোধন করে ‘দি ফরেস্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট-২০১২’ নামে বিলটি উপস্থাপন করা হয়। বিল অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। স্থায়ী কমিটি গঠন করে একটি উপ-কমিটি। আর উপ-কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে বিলের রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও বিলটিতে তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বন আইনকে যুগোপযোগী করতে কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। উপ-কমিটির নিকট প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে নানা আপত্তি ও পরামর্শ জমা পড়ে। আপত্তি ও পরামর্শ নিয়ে ফরেস্ট পলিসি অ্যাডভোকেসি ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন, সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলন, আদিবাসী ফোরাম এবং বনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সঙ্গে উপ-কমিটি মতবিনিময় করে। সূত্র জানায়, বিলের রিপোর্ট চূড়ান্ত করে উপ-কমিটি স্থায়ী কমিটির কাছে জমা দিয়েছে। গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়নি। চলতি বাজেট অধিবেশনে বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে। এদিকে উপ-কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিলটি সংশোধনে নানা প্রস্তাব জমা পড়লেও তার অধিকাংশই আমলে নেয়া হয়নি। সকল মহল থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার বিষয়টি আইনে গুরুত্ব দেয়ার দাবি থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। অপরদিকে পার্বত্য শান্তি চুক্তিতে আদিবাসীদের প্রথাগত অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করা হলেও প্রস্তাবিত আইনে তা রক্ষার বিধান রাখা হয়নি। যা নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলো পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন সংগঠন। আর আদিবাসী, বনবাসী ও বননির্ভর জনগোষ্ঠির অধিকারের বিষয়টি ষ্পষ্ট করার দাবিও বিলে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। যে কারণে সংশোধিত আইন দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির স্বার্থ সংরক্ষণে কতটা সফল হবে তা নিয়ে আশংকা রয়েছে। সংশোধিত আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সংশয় প্রকাশ করেছেন ফরেস্ট পলিসি অ্যাডভোকেসি ফোরামের কো-অর্ডিনেটর সাউদিয়া আনোয়ার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বনখাত অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তাই বন বিভাগের সকল উন্নয়ন কাজে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি গুরুত্ব দেয়ার বিধান রাখতে হবে। বন রক্ষার পাশাপাশি নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। আর বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নকালে বনসংলগ্ন মানুষের সঙ্গে ফোকাস গ্রুপ আলোচনার বিধান যুক্ত করতে হবে। অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা জানান, তারা বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে জমা দিয়েছেন। মূল কমিটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সংসদে উপস্থাপন করবে। উপ-কমিটি বিলটিকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বেশকিছু মতামত বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি।