চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে মুখোমুখি বিতর্ক

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৩, ২২:৫১
চট্টগ্রামের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফিরিস্তি দিয়ে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের বক্তব্যের পর একই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ করেন সিটি মেয়র এম মনজুর আলম। গতকাল শনিবার নগরীতে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে দুই প্রধান দলের দুইজন নেতার মুখোমুখি ‘মধুর বিতর্ক’ আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চট্টগ্রামের জন্য বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীকে কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল সড়ক ও উপকূলীয় এলাকায় রিংরোড নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এসবের কোনোটাই আজ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। সিটি মেয়র তার বক্তৃতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ থাকার বিষয়টিও মন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দুইটি সুইপিং ট্রাক উপহার দেয়া সম্পর্কিত মন্ত্রীর বক্তব্যেরও জবাব দেন মেয়র। মন্ত্রী তার বক্তৃতায় মেয়র না চাইলেও এ দুইটি ট্রাক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দেয়া হয়েছে বলে কৃতিত্ব নেয়ার চেষ্টা করলে মেয়র এর জবাবে বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় সব সিটি কর্পোরেশনকেই নগরীর রাস্তাঘাট ঝাড়ু দেয়ার জন্য এসব ট্রাক দিয়েছে। সেখান থেকেই ‘কাট’ করে আপনি আমাদের চট্টগ্রামকে দুইটি ট্রাক দিয়েছেন। তবু এ উপহারের জন্য আমরা চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সবকিছুতে সরকারের সমালোচনা করা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী বর্তমান সরকারের আমলেই চট্টগ্রামে দেশের সর্ববৃহত্ উদ্ভিদ উদ্যান নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ভাটিয়ারী গলফ ক্লাবের পাশে ২০০ একর জমির উপর প্রস্তাবিত এ উদ্ভিদ উদ্যানটি হবে নান্দনিক সৌন্দর্যের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থান। এছাড়া পর্যটন শহর কক্সবাজারে ২০ একর জমির উপর একটি আন্তর্জাতিকমানের ফুলের বাগান নির্মাণেরও ঘোষণা দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন ড. হাসান মাহমুদ।