কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী বন রেঞ্জের আওতাধীন প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বনভূমিতে জাতীয় উদ্যান মহাপরিকল্পনার কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। উপরন্তু নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি পাচার, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বন সম্পদ লুটপাটসহ বনভূমি জবর দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকায় উক্ত প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, এ উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকা ইনানী বনরেঞ্জের আওতাধীন ১০ হাজার হেক্টর বনভূমির উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ বন অভ্যন্তরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরণ্যক ফাউন্ডেশন ইনানী বনভূমিকে জাতীয় উদ্যান করার পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে প্রকল্পের কাজ শুরু করে। বনবিভাগ, ইনানীসহ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় উদ্যান প্রকল্পের কাঠ সম্পদ রক্ষায় বন নির্ভরশীল স্থানীয় গরীব ও দুস্থ ১৩৬০ পরিবারকে নিয়ে ২৪টি বন রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি উপকারভোগী পরিবারের ৩৮০ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বন পাহারাদার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এরাই এখন বন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ।
মনখালী বন রক্ষা কমিটির সভাপতি নুরুল আবছার জানান, বন রক্ষা কমিটির পাহারাদার বনভূমির দখল হস্তান্তর, পাহাড় কেটে মাটি পাচারসহ বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে টাকার বিনিময়ে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ইনানী বন রক্ষা সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, জাতীয় উদ্যান প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতি মাসে সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা-সেমিনার হলেও প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানের কোন অগ্রগতি হচ্ছে না। তিনি জানান, প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতা ও উপকারভোগীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে না। আরণ্যক ফাউন্ডেশনের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল ইসলাম মুকুট প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, বন বিভাগ ইতিমধ্যে জাতীয় উদ্যান প্রকল্পের অভ্যন্তরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দে আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আরণ্যক ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত ইনানী বনাঞ্চলের ফাঁকা জায়গায় বনায়ন সৃজনের লক্ষ্যে নার্সারীতে উত্পাদিত চারা রোপণ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কাজ একটি পরিকল্পিত বন সৃষ্টি এবং জীববৈচিত্র্যের বসবাসযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা। বন ও গাছ-গাছালি রক্ষা করা বন বিভাগের দায়িত্ব।
এ প্রসঙ্গে ইনানী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা সুনীল কুমার দেব রায় জানান, ইনানীর বনাঞ্চলে যেসব অবৈধ স্থাপনা নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে তাতে বাধা প্রদানসহ ইতিমধ্যে গড়ে তোলা বসতবাড়িসহ নানা প্রকার স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
