য শো রে ডি জি টা ল উ দ্ভা ব নী মে লা

প্রযুক্তি সেবায় মেয়েরা

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৩, ২০:০২
প্রযুক্তি এগোচ্ছে দ্রুতলয়ে। প্রযুক্তির সাথে সমান্তরালে এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েরাও। শহর পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সমান গতিতে ছুটছে প্রযুক্তির চাকা ধরে। প্রযুক্তির সেবা কিংবা প্রযুক্তির জ্ঞান আহরণ— সবখানেই নারীরা সমানে সমান হয়ে আছে। যশোরে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ‘ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায়’ মেয়েদের এমন ডিজিটাল গতিময়তা সবার নজর কাড়ে। মেলা ঘুরে দেখা গেল, কয়েকটি স্টলে সেবা দিচ্ছেন মেয়েরা। মেলায় একটি স্টল রয়েছে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ই-সেবা। সেখানে পুরুষ সহকর্মীর পাশাপাশি নারীকর্মীকেও দেখা গেল উদ্যমী মেজাজে। অফিস সহকারী পদের চাকুরে ফ্লোরেন্স ইলোরা মার্টিন জানালেন, অফিসে তিনি নিয়মিত জেলা ও জাতীয় ই-সেবা কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। প্রযুক্তি সেবা নিয়ে এবার তিনি ৪র্থবারের মতো মেলায় এসেছেন। এর আগে কৃষিমেলা, বিজয়মেলা ও কম্পিউটার মেলায় তিনি তথ্য-প্রযুক্তির নানাদিক তুলে ধরেন দর্শনার্থীদের সামনে। কিন্তু এবারের মেলা একেবারেই ব্যতিক্রমী বলে তার ধারণা। মানুষের উপস্থিতি এবং জানার আগ্রহ বিশেষত মেয়েদের অন্য যেকোনো মেলার তুলনায় অনেক বেশি। জাতীয় ই-সেবায় সারাদেশে যেসব সুবিধা রয়েছে, তার চেয়ে বেশি অনলাইনে জমির পরচা তোলার আবেদন যশোর জেলার বাড়তি সুবিধা। এই সুবিধা নিতে মেলায় ২৩ জন সেবা গ্রহিতাকে সহায়তা করেছেন জানিয়ে মার্টিন বলেন, মেলা থেকে বেশ কয়েকজন পরচা তুলেছেনও। অনলাইনে ঘরে বসেই মেয়েরা পরচা তোলার আবেদন করছে। মেলায় আব্দুর রাজ্জাক কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ ও বিসিএমসি কলেজের মেয়েদের সাড়া ছিল লক্ষণীয়। মেলার জন্য অফিস সময়ের বেশি অতিরিক্ত ৩ ঘণ্টা কাজ করেও নির্বিঘ্নে সংসার সামলাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দুজন হলেন: কনস্টেবল ফারজানা ইয়াসমীন ও ফাতেমা খাতুন। অনলাইনে জিডি করার পদ্ধতি ছাড়াও মেটাল ডিটেক্টর, অ্যালকোহল ডিটেক্টরের সাহায্যে মাদকসেবী সনাক্তকরণের পদ্ধতি দর্শক-শ্রোতাদের তারা দেখান আগ্রহভরে। তারা জানালেন, মেলায় উপস্থিত দর্শনার্থীদের ৪০ শতাংশ নারী। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় সাজে সাজানো হয় আরবপুর ইউনিয়ন ই-সেবা কেন্দ্রের স্টল। যশোর সদরের এই কেন্দ্রটিতে জেলার অন্যান্য স্থানের নারী কর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে দর্শকদের নানা সেবা দেন। তাদেরই একজন অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা পাপিয়া দাস জানান, নিজের জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি মেলার দর্শনার্থীদের সেবা দেয়ার জন্য এসেছি। দূর-দূরান্তের নানা প্রান্তের মানুষের সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগছে। শ্রীধরপুর ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা ইয়াসমীন খাতুন জানান, মেলায় মেয়েরা নিজেদের ছবি তোলা আর পরচা তোলার নিয়ম জানছে বেশি। ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ই-মেইল চেক করার কাজেও মেয়েদের আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়। ঝিকরগাছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিমুলিয়া ইউনিয়নের তথ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনা করেন ফারহানা ইয়াসমীন। তিনি বলেন, এভাবে এগোতে থাকলে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে। ‘মেলায় নারীদের আগ্রহ এবং সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে’— একরাশ হাসি ছড়িয়ে বললেন ফারজানা।