ম্যা ন বু কা র অ র্জ ন ক র লে ন

লিডিয়া ডেভিস

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৩, ২০:০৪
‘তিনি তার নিজের সৃষ্ট সাহিত্য কাঠামোর একজন সুদক্ষ ঈশ্বরী’— এই কথাগুলো বলা হয় লিডিয়া ডেভিসের সাহিত্যকর্মকে প্রশংসা করে। তিনি মূলত সুন্দর-সাবলীল ছোটগল্প লেখার জন্য বিখ্যাত। সাধারণত লিডিয়ার ছোটগল্প সম্পর্কে আরো যে কথাটি প্রচলিত তা হলো ‘সংক্ষিপ্ততা আর কৌতুকপ্রিয়তা হলো তার লেখনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য’। দি ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার-২০১৩ পেলেন মার্কিন লেখক লিডিয়া ডেভিস। তালিকায় থাকা ১০ সাহিত্যিকের ৭ জনের উপস্থিতিতে বিজয়ী হিসেবে লিডিয়া ডেভিস-এর নাম ঘোষণা করা হয়। উপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও অনুবাদক লিডিয়া ডেভিস তার ছোট গল্পের সংকলনগুলোর জন্য জনপ্রিয়। ডেভিসের উপন্যাস ‘দি এন্ড অফ দি স্টোরি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। বার্ষিক ম্যান বুকার পুরস্কারের চেয়ে ভিন্নধর্মী ‘দি ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’ দুই বছর অন্তর জীবিত কোন সাহিত্যিককে প্রদান করা হয়ে থাকে। ইংরেজি ভাষায় রচিত অথবা ইংরেজিতে অনূদিত সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রেই এ পুরস্কার দেয়া হয়। লিডিয়া ডেভিস লিডিয়া ডেভিস একজন মার্কিন লেখিকা। ছোটগল্প ছাড়াও তিনি উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনায় সিদ্ধহস্ত। পাশাপাশি ফরাসি ও অন্যান্য ভাষার অনুবাদক হিসেবেও কাজ করেন। সাহিত্যিক তায়ো লিন বলেন, লিডিয়ার সাহিত্যই তার নিজের সাহিত্য সৃষ্টির অনুপ্রেরণা। আর বিশেষ করে তার দ্বিতীয় উপন্যাস রচনার অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন লিডিয়ার প্রথম উপন্যাসের নাম। লিডিয়া ডেভিস ১৯৪৭ সালের ১৫ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রবার্ট গর্হাম ডেভিস ছিলেন একজন সমালোচক ও ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক। তার মা হোপ হ্যাল ডেভিসও ছিলেন ছোটগল্পকার, শিক্ষিকা এবং আত্মজীবনীকার। এ দিক দিয়ে তাই বলা যায়, মূলত তার জন্ম সাহিত্য পরিমণ্ডলে আবর্তিত একটি পরিবারে। লিডিয়া ১৯৭৪ সালে পল অস্টারের সঙ্গে বিবাহিত জীবন শুরু করেন। কিন্তু তাদের এ বৈবাহিক জীবন বেশিদূর এগোয়নি। পলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর লিডিয়া শিল্পী অ্যালেন কোেক বিয়ে করেন। তিনি দুই পুত্র সন্তানের জননী। বর্তমানে লিডিয়া ডেভিস নিউইয়র্কের আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃজনশীল লেখনীর অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। লিডিয়া ডেভিসের অসংখ্য প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দ্যা নাইনটিন্থ থার্টিন ওমেন এন্ড আদার স্টোরিজ (১৯৭৬), ব্রেক ইট ডাউন (১৯৮৬), অলমোস্ট নো মেমোরী (১৯৯৭), ভ্যারাইটিজ অব ডিস্টার্বেন্স (২০০৭), গেস দি কাউস (২০১১)। তাছাড়া লিডিয়ার ফরাসি সাহিত্যিক মার্শেল প্রাউস্টের ‘সোয়ান’স ওয়ে’ এবং গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের ‘মাদাম বোভারি’র ইংরেজি অনুবাদ পাঠকের কাছে নন্দিত হয়েছে। ১৯৯৯ সালে তিনি ফরাসি সরকার কর্তৃক ‘শ্যাভেলিয়্যার অব দ্য আর্টস অ্যান্ড লেটারস’-এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ সালে ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ অর্জন করেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ভূষিত হয়েছেন নানা পুরস্কারে যার মধ্যে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড, ফিলোলেকি্জয়ান অ্যাওয়ার্ড অন্যতম। আর সব শেষে এ বছরের ২২ মে তার নাম ঘোষিত হলো ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে। তার বর্ণাঢ্য জীবনগল্পের বাগান সাজাতে আরো গতিময় হওয়ার জন্য এ পুরস্কার হয়তো একটি অনুপ্রেরণা হবে।