রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান এবং তালিকাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার চিহ্নিত আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় দুই প্রধান মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি বিএনপি সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটি রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চল দীর্ঘদিন থেকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাকারবারীদের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর সীমান্ত পথে ভারত থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের চালান সংশ্লিষ্ট এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছায়। এরমধ্যে সামান্য কিছু অস্ত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয় এবং বাকি অংশ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায় বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জরুরি বলে রাসিক নির্বাচনে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু মনে করেন। তিনি জানান, বিষয়টি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ এবং রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
সূত্র মতে, গত বছরের ২ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির কর্মীরা প্রকাশ্যে পুলিশের সামনেই বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। ওই দিনের ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি পুলিশ প্রশাসনের। অস্ত্র হাতে যেসব ছাত্রলীগ ক্যাডারের ছবি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল তাদের কাউকে আজ পর্যন্ত গ্রেফতার কিংবা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কোনটিই করা হয়নি।
এদিকে গত বছরের ৬ নভেম্বর যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের রাজশাহীর নেতা-কর্মীরা পুলিশের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ওইদিন বিকালে পুলিশের উপর হামলা, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে মারপিট করে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলা হলেও আসামিদের পুলিশ আজও গ্রেফতার করতে পারেনি। এরপর শিবিরের ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশের এক শিক্ষানবিস উপ-পরিদর্শকের দুই হাতের কব্জি উড়ে যায়। এর পরদিনই শিবির কর্মীরা পিটিয়ে, ইট দিয়ে পুলিশের আরেক উপ-পরিদর্শকের মাথা ও মুখমন্ডল থেতলে দেয়। উভয় ঘটনায় থানায় পুলিশ বাদী মামলা হয়। কিছু আসামি গ্রেফতারও হয়। কিন্তু অধিকাংশ আসামিকেই ধরতে পারেনি পুলিশ।
রাসিক নির্বাচনে মহাজোটের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা এক অভিযোগে বলেছেন, পুলিশের উপর হামলা, কব্জি উড়িয়ে দেয়া এবং মাথা ও মুখ থেতলে দেয়ার ঘটনায় জড়িত জামায়াত-শিবিরের চিহ্নিত আসামিরা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। এতে করে স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওইসব মামলার চিহ্নিত আসামিরা গ্রেফতার না হলে তারা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে বলে বাদশা অভিযোগ করেন।
এসব বিষয়ে মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী সমপ্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, পুলিশের আইজিপি, রাজশাহী মহানগর কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের চিহ্নিত আসামিদের নাম-ঠিকানার তালিকাও প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আসামিরা আসন্ন রাসিক নির্বাচনে একজন মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামি ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে শিঘ্রই ব্যাপক অভিযান শুরু হবে।
