খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদটি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল যখন নানামুখী তত্পরতা চালাচ্ছে, ঠিক তখন আরেকটু ভিন্ন কৌশলে এগুচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় ঐক্যজোট। শনিবার রাতে তারা জামায়াতের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পেয়ে যেন নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। এখন জামায়াত সরাসরি মনিরুজ্জামান মনির পক্ষে মাঠে থাকলে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে কে নির্বাচিত হবেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগ শিবিরেও নতুন করে সমীকরণ শুরু হয়েছে। তবে তালুকদার আব্দুল খালেকের কাছেও একটি ট্রামকার্ড আছে। যেকোন মুহূর্তে তিনি সেটি ব্যবহার করতে পারেন। বলা হচ্ছে জাতীয় পার্টি (এ) সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধুই হচ্ছেন তার সেই ট্রামকার্ড।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে দেন-দরবার চলছে। এরশাদকে ম্যানেজ করে শফিকুল ইসলাম মধুর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারলে জাতীয় পার্টির ভোট স্বাভাবিকভাবেই তালুকদার খালেকের পক্ষে যাবে। ফলে তার বিজয় নিশ্চিত হবে এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আর তাই শেষ মুহূর্তে এ ট্রামকার্ডটি খেলার চেষ্টা করছেন তালুকদার আব্দুল খালেক।
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম গত শুক্রবার খুলনায় আসেন। তিনি দুদিন ধরে সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে নগরীতে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ধর্মের নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। খুলনাস্থ গোপালগঞ্জ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে মতবিনিময় করেন। এরপর বসেন দলীয় নেতাদের সাথে। তিনি গোপালগঞ্জ সমিতির সাথে বৈঠককালে তালুকদার খালেককে জিতিয়ে আনার জন্য সকলকে এক সাথে কাজ করার আহবান জানান। এ সময় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ‘ভোট এদিক-ওদিক হবে না’ বলে তাকে আশ্বস্ত করেন।
পরে শনিবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে এক বৈঠকে শেখ সেলিম বলেন, আপনারা যদি আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে চান তাহলে খালেক ভাইকে জিতিয়ে আনার জন্য জোরেশোরে কাজ করে যান। এদিকে দলীয় অপর একটি সূত্র জানায়, দলীয় কিছু নেতা শেখ সেলিমকে আশ্বস্ত করলেও দলের ভিতরের চেহারা একটু ভিন্ন। দলের ডাকসাইটের অনেক নেতা এখনো তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামেননি। কোন কোন নেতা খানিকটা দায়সারাভাবে কাজ করছেন। তবে তালুকদার খালেকের অনুসারীরা আন্তরিকতার সাথেই মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় ‘কোন্দল’ মেটাতে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি ও তোফায়েল আহমদ এমপির আগামীকাল মঙ্গলবার খুলনায় আসার কথা রয়েছে। তারা তালুকদার আব্দুল খালেকের নির্বাচনী প্রচারণায়ও অংশ নেবেন।
এদিকে জাতীয় পার্টি সমর্থিত ও খুলনা নাগরিক উন্নয়ন কমিটি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মধু তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এমন কোন কথা দলীয় চেয়ারম্যান আমাকে বলেননি। অতএব এ নিয়ে এখন ভাবছি না। বরং তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, একটি মহল নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে উস্কানিমূলক আচরণ করছে। ওই মহলটি গত কয়েকদিনে একাধিকস্থানে তার মার্কা দোয়াত কলমের কর্মী-সমর্থকদের মারধর, পোস্টার ছেঁড়া এমনকি তার প্রার্থিতা নিয়েও নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে।
অপরদিকে খুলনার নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এবং মনিরুজ্জামান মনি প্রতিনিয়ত তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করছেন। ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি বলেন, আমরা বরাবরই বলে আসছি নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার আশংকা রয়েছে। বস্তিবাসীদের জোর করে এবং কালো টাকা ছড়িয়ে যাতে প্রভাবিত না করা যায়; সে দিকে নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।
