সংসদ গ্যালারি

সাধারণ আলোচনার পরিবর্তে সাফল্যের ফিরিস্তি

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৩, ২২:১৫
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনার জন্য প্রথমেই ফ্লোর দেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফকে। পরে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে ফ্লোর দেন। তবে তিনি সম্পূরক বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনার পরিবর্তে শুরু করেন মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে তার সাফল্যের ফিরিস্তির বিবরণ। এরপর তিনি নাম উল্লেখ ছাড়াই কতিপয় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। ‘বাজেট ছলনাময়ী নারীর মত’ সম্পূরক বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির রেহানা আক্তার রানু নিজের এলাকা ফেনীর আঞ্চলিক ভাষায় কয়েকটি মন্তব্য করেছেন। এরপর তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট একটি সুন্দরী ছলনাময়ী নারীর মত। সুন্দর সুন্দর কথা, সুন্দর সুন্দর প্রস্তাবনা কিন্তু সবই ছলনা। গরম ডিম এবং এক্সপাঞ্চ রেহানা আক্তার রানু বলেন, ওয়ান ইলেভেনে জরুরি অবস্থায় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার করে গরম ডিম প্রয়োগ করা হয়েছিলো। যারা এসব করেছিলো তাদের বিচার না করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গণরিমান্ডে দেয়া হচ্ছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন। আসরের নামাজের বিরতির পর হুইপ আসম ফিরোজ ফ্লোর নিয়ে বলেন, বিএনপির রেহানা আক্তার রানু যেসব কথা বলেছেন তা অসংসদীয়। এসব কথা এক্সপাঞ্চ করা হোক। জবাবে স্পিকার বলেন, বক্তব্য পরীক্ষা করে অসংসদীয় যেসব কথা রয়েছে তা এক্সপাঞ্চ করা হবে। ‘আমাদেরই ওয়াকআউট করতে হবে’ পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান বিরোধী দলীয় সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়ার দেয়া বক্তব্যের জবাব দেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্য বিধিসম্মত হয়নি। বক্তব্য যেভাবে দেয়া হয়েছে তাতে মনে হয় আমরা বিরোধী দল এবং আমাদেরকেই ওয়াকআউট করতে হবে। এ কেমন কথা! আবদুল মান্নান বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চে মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংসদে তিনি বলেছিলেন, বিরোধী দলীয় নেতা যদি তার স্বামী জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার চায় তাহলে সরকার সহায়তা করবে। সে সময় বিরোধী দলীয় নেতা বলেছিলেন, মতিয়া চৌধুরী যেন মামলা দায়ের করেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, স্বামী নিহত হয়েছে একজনের, আর বিচার চাইতে হবে আরেকজনকে। এ কেমন কথা! এ কথা শুনে সরকারি দলের সদস্যদের মাঝে হাসির রোল পড়ে। মুচলেকার রাজনীতি বিরোধী দলীয় সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বলেন, বিএনপি মুচলেকা দেয় না এবং মুচলেকার রাজনীতি করে না। দেশবাসী ভালো করেই জানে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি যায়নি।