রাজধানীর মিরপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মেজর (অব.) নাজমুল হাসান সরকার (৫০)। পুলিশ বলছে, মানসিক দুশ্চিন্তায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নাজমুল হাসানের পাঁচ কাঠা জমি দখল করে নিতে একটি চক্র তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসাবে ফরিদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
মিরপুর থানার এসআই তৌহিদুল আরেফিন জানান, গত শনিবার বিকাল ৪ টার দিকে পুলিশ পাইকপাড়ার ১৭১, আহমেদনগরের টিনশেড ঘর থেকে নাজমুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, একদিন আগেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। লাশ উদ্ধারের সময় টিনশেড ঘরের দরজা ভেঙ্গে ফেলা হয়। আর ওই ঘরের ভিতর থেকে দরজা লাগালে বের হয়ে যাবার কোন রাস্তা নেই।
জানা গেছে, নাজমুল হাসান সরকার ছয় বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তার স্ত্রী লিপি বেগমের সঙ্গে কয়েক বছর আগে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। নাজমুল হাসান তার পাঁচ কাঠা জমিতে কয়েকটি ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। একটি ঘরে তিনি নিজেই থাকতেন। পুলিশ দাবি করেছে, এলাকার মাদকসেবীদের সঙ্গে চলতে চলতে তিনিও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।
ঘটনার পর নাজমুলের বড় বোনের ছেলে ইমন বাদী হয়ে গতকাল রবিবার মিরপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। নাজমুলের মেজো বোনের মেয়ে সায়মা অভিযোগ করেন, তার মামাকে এলাকার লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মাদকাসক্ত হয়ে আত্মহত্যা করার কথা প্রচার করছে। ওই পাঁচ কাঠা জমিতে নির্মাণ করা টিনশেড ঘরের ভাড়া তুলতেন ফরিদ। ফরিদ চেষ্টা করছিলেন, তার মামার কাছ থেকে জমিটি লিখে নিবেন। এক মাস আগে তার মামা সেখানে বাড়ি নির্মাণের জন্য একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। এ কারণে ফরিদ জমি লিখে নেয়ার জন্য তার মামাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
নাজমুল হাসান সরকারের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব থানার ঠাকুরচর গ্রামে।
