নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জোট-মহাজোট সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় কেন্দে র হেভিওয়েট নেতারা এখানে ছুটে আসছেন।
মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের টেলিভিশন মার্কার পক্ষে শনিবার থেকে গণসংযোগ শুরু করেন সাবেক চীফ হুইফ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তার সাথে একই দিন প্রচারণায় নামেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কেন্দ ীয় নেতা আব্দুর রহমান, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মাদ ইউনুস, সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল জ্যাকব, নূর নবী শাওন এমপি, বরগুনার এমপি গোলাম সবুর টুলু, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান হিরন, ছাত্রলীগের কেন্দ ীয় সভাপতি এএইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অস্বস্তিতে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
আফম বাহাউদ্দিন নাছিম কেন্দ ীয় নেতাদের আরো একটি টিম পাঠানোর জন্য স্থানীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলে স্থানীয় নেতারা আর হেভিওয়েট নেতাদের গণসংযোগে না আসার জন্য অনুরোধ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক নেতা ইত্তেফাককে জানান, কেন্দ ীয় নেতারা গণসংযোগে আসায় ভোটের মাঠে তেমন কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং তাদের প্রটোকল দেয়ার জন্য অনেক কর্মী-সমর্থকের সময় ব্যয় হচ্ছে। কেন্দ ীয় নেতারা অধিকাংশই মিডিয়া কাভারেজের জন্য প্রার্থীর সাথে ফটো সেশনে অংশ নিয়ে ঘুরে বেড়ান। এ বিষয়টি বাহাউদ্দিন নাছিমকে অবহিত করার পর কেন্দে র পক্ষ থেকে পৃথক আর কোনো নতুন টিম বরিশাল পাঠানো হয়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, এখানে বিএনপি’র ভোট বেশি থাকায় তারা রাজনৈতিক আদলের পরিবর্তে ব্যক্তি শওকত হোসেন হিরনের ইমেজ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কাজে লাগিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন। দলের শীর্ষ নেতারা এসে গণসংযোগে অংশ নিলে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ নির্বাচন সম্পন্ন হলে তাদের প্রার্থীকে বেকায়দায় পড়তে হবে। ব্যক্তি শওকত হোসেন হিরনকে নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে যখন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গলদঘর্ম তখন ১৮ দল সমর্থিত জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আহসান হাবীব কামালের পক্ষে নির্বাচনকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দলীয় হেভিওয়েট নেতাদের ভিড় বাড়ছে বরিশালে। কামালের আনারস মার্কার সমর্থনে গণসংযোগে এসেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), হাফিজ ইব্রাহিমসহ কেন্দ ীয় নেতাদের একটি টিম। হেভিওয়েট এসব নেতারা বৃহস্পতিবার এখানে এসে আহসান হাবিব কামালের পক্ষে কেন্দ ীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ার এমপিকে সাথে নিয়ে নগর চষে বেড়াচ্ছেন। টানা ৩ দিন তারা প্রচার-প্রচারণাকালে সরকারের নানান ব্যর্থতা ও ইসলাম বিরোধী মনোভাবের কথা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। বিএনপি’র হেভিওয়েট এসব নেতাদের আগমনের পর গত শনিবার নতুন করে যুক্ত হয়েছেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। তারা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করে নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে দলীয় নেতারা জানান।
কামালের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা প্রশাসনে রদবদল ও সেনা মোতায়েনের দাবি
বরিশালকে একটি আধুনিক শিল্পনগরী হিসাবে গড়ে তোলাসহ ২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল। একই সাথে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের রদ-বদল ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়। রবিবার দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে বলেন, আনারস মার্কায় যাতে মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আহসান হাবীব কামালের সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মনিরুল কবির মনির, ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুত্ফর রহমানসহ অনেক নেতা-কর্মীকে আওয়ামী লীগের লোকজন মারধর করে এবং হুমকি দিয়েছে। শাসক দলের অব্যাহত হুমকির মুখে তাদের নেতা-কর্মীরা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন এমপি সরোয়ার।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে আনারস মার্কার নির্বাচনী অফিসের সামনে টেলিভিশনের ব্যানার লাগিয়ে অফিসটি দখল করে নেয়া হয়েছে, এসব বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, আনারসের বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে শাসক দল মরিয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনকে আগেই আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পুলিশ বিভাগে রদবদল করার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই সাজানো প্রশাসন দিয়ে নির্বাচন করতে গিয়েই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করতে যাচ্ছেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ শাহীন, মহিলা দলের কেন্দ ীয় যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনসহ বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।
