চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম রহমানের পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে কোন কর্তৃত্ব বলে তিনি ওই পদে আসীন আছেন এই মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদ শেষের পর তার গৃহীত কার্যক্রমকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং গ্রহণকৃত বেতন ভাতা কেন ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেয়া হবে না - সেই মর্মেও রুল জারির আবেদন রয়েছে। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে এ রিটের শুনানি হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন। রিটে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, দুদক সচিব, মন্ত্রীপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ৫ জুন দুদক চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু ওই নোটিসের জবাব দেননি দুদক চেয়ারম্যান। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল মন্ত্রীপরিষদ সচিব এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গোলাম রহমানকে দুদকের কমিশনার পদে নিয়োগ দেন। ওই বছরের ২ মে থেকে তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। দুদক আইনের ৬(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনারদের নিয়োগের তারিখ হতে চার বছর মেয়াদের জন্য স্ব-স্ব পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। সেই হিসেবে গোলাম রহমানের মেয়াদ গত পহেলা মে চার বছর পূর্ণ হয়েছে। এই চার বছর পূর্ণ হওয়ার পরেও তিনি দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আবেদনে আরো বলা হয়, চেয়ারম্যান পদের দিন গণনা কিভাবে হবে তা জানতে ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট দুদকের সচিব মন্ত্রীপরিষদ সচিবের কাছে আইনগত মতামত চায়। পরবর্তীতে ওই বছরের ২১ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে মতামত দেয়া হয়, ২০০৯ সালের ২৪ জুন তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে তার সময়কাল গণনা করা হবে। অথচ দুদক আইনেই বলা হয়েছে যে, নিয়োগ দেয়ার দিন থেকে এ মেয়াদকাল শুরু হবে। সংসদে প্রণীত আইনের চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন বা সিদ্ধান্ত বড় হতে পারে না। কিন্তু আইনকে তোয়াক্কা না করেই গোলাম রহমান দুদক চেয়ারম্যানের পদ ধরে রয়েছেন।
