বেড়েই চলেছে চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগে অনিয়ম-দুর্নীতি

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৩, ২৩:০৬
চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনে বিভিন্ন খাদ্য গুদামে সঠিক তদারকি না থাকায় অনিয়ম-দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। একই সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অপরাধও ঠেকানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক করা হলেও তারা গুদামের দায়িত্ব ছাড়ছেন না। আবার কেউ কেউ গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে অজ্ঞাত কারণে পদোন্নতি নিতে পর্যন্ত আগ্রহী নয়। বরং কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ায় মামলা করেছেন বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সম্প্রতি দেয়া এক চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চল হতে যে সকল কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্বে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পদায়ন করা হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো কর্মস্থলে যোগদান করেননি। আবার তাদের পূর্ববর্তী পদ তথা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার পদে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা যথারীতি যোগদান করেছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে, একই পদে দুই জন অবস্থান করায় বেতন-ভাতাদি নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়—বান্দরবান, কক্সবাজার এবং রাঙামাটির লংগদু উপজেলা খাদ্য গুদামে গত ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা খাদ্য গুদামে প্রায় ৯৭ টন চাল কম পাওয়া যায়। আবার গত সপ্তাহে বান্দরবান সদর খাদ্য গুদামে পাওয়া যায় অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ টন চাল। এ ঘটনায় খাদ্য বিভাগের পরিচালক (মামলা ও তদন্ত) মো. জহির উদ্দিন গুদামটি সিল-গালা করে দেন। একইভাবে কক্সবাজার সদর খাদ্য গুদামে খাদ্য বিভাগীয় উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. ইফতেখার তদন্ত শেষে অনিয়ম পাওয়ায় গুদাম সিল-গালা করে দিয়েছেন। খাদ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ তদন্ত করে এ সব অনিয়ম উদঘাটন করে; কিন্তু এ নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায় থেকে তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল গুদাম থেকে খালাস দেয়ার পরও পরবর্তী সময়ে গুদামেই থেকে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি গুদামে রেখেই উন্নয়ন প্রকল্পের চাল অন্যত্র বিক্রি করা হয়; কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কোন খালাসকৃত পণ্য গুদামে থাকার নিয়ম নেই। সঠিক তদারকি না থাকায় বিভিন্ন গুদামে এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।