রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, জোট-মহাজোটের নির্বাচনী তত্পরতা ততই বাড়ছে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট ‘এসিড টেস্ট’ হিসাবে নিয়েছে। তারা তাদের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পারিবারিক ঐতিহ্য, ব্যক্তি ইমেজ ও সাড়ে চার বছরের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সামনে এনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মেয়র হওয়ার পর খায়রুজ্জামান লিটন কর্তৃক রাজশাহীর উন্নয়নে ঘোষিত ‘ভিশন-২০১৮’ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ছাড়াও এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ৩৭ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোট অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসাবে নিয়েছে। তারা তাদের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সরকার বিরোধী নানা কথাবার্তা বলে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। উভয়পক্ষই নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার ব্যাপক তত্পরতা শুরু করায় পদ্মা পাড়ের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে নির্বাচনী প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে।
এদিকে রাজশাহীবাসীর প্রায় দেড় যুগের আন্দোলনের ফসল পাইপলাইনে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস বাসাবাড়িতে সংযোগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে রাজনীতিও জমে উঠেছে। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার গ্যাসের সংযোগ উদ্বোধনীতে উপস্থিত পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানী লিমিটেডের (পিজিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (জিএম মার্কেটিং) রেজাউল ইসলাম খান ও রাজশাহী সদর আসনে মহাজোটের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে শোকজ নোটিস দিয়েছেন। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও এমপি বাদশা শোকজের জবাব দিয়েছেন। তবে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পিজিসিএলের জিএম শোকজের জবাব দেননি বলে রিটার্নিং অফিসার জানান। প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন সকালে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান স্থানীয় দু’জন ভাষা সৈনিকের বাসায় প্রতীকী চুলায় আগুন জ্বালিয়ে গ্যাস সংযোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আওয়ামী লীগ ও মহাজোট নেতারা বলছেন, ২০০৮ সালের রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিলো রাজশাহীতে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পাইপলাইন বসানোসহ সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রাজশাহীতে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত এবার রাসিক নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে হলেও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গ্যাসের সংযোগ পেয়েছে রাজশাহীর মানুষ। রাজশাহীতে গ্যাস সংযোগের ইস্যুকে সাধারণ মানুষ সফলতা হিসাবেই নিয়েছে।’ এ কারণে উজ্জীবিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সমর্থকরা। প্রতিশ্রুতি পূরণের সফলতা, পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগাতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মহাজোট ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শিক্ষানগরীকে আগামীতে শিল্প নগরী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিচ্ছেন মেয়র প্রার্থী এএইএম খায়রুজ্জামান লিটন।
অন্যদিকে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোট নেতারা বলছেন, সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার রাসিক নির্বাচনে ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে সরকারের কতিপয় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দিয়েছে। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মধ্য দিয়ে ব্যর্থ সরকার রাজশাহী মহানগরবাসীর সাথে একপ্রকার প্রতারণা করেছে। কারণ ভোটের পর রাজশাহীর আর কোনো মানুষ গ্যাসের সংযোগ পাবে না। এছাড়া রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহের প্রকল্প ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেছিলেন বলেও দাবি করছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বুলবুল বিজয়ী হলে সকলের বাড়িতে সমতার ভিত্তিতে গ্যাসের সংযোগ দেয়া হবে বলেও তার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিটনের গণসংযোগ
মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সোমবার সকালে নগরীর হড়গ্রাম নতুনপাড়া, দীঘির পাটাল, নগরপাড়া, হলদারপাড়া ও আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, ভোট ও দোয়া চান। তিনি পশ্চিম শেখপাড়া জামে মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় ও মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ভোট প্রার্থনা করেন। মেয়র প্রার্থীর সাথে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ছিলেন। এ সময় লিটন বলেন, ‘হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে বস্তিবাসীদের বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা আরো উন্নত ও আধুনিকায়ন করা হবে।’
বুলবুলের গণসংযোগ
মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল সোমবার সকালে ১৩ নং ওয়ার্ডের সাহেব বাজারস্থ আরডিএ মার্কেট, সবজি বাজার, মাছপট্টি, মাংসপট্টি এলাকায় গণসংযোগ করেন। বিকালে ১২ নং ওয়ার্ডের বড়কুঠি, ১৩ নং ওয়ার্ডের গৌরহাঙ্গা ও ১১ নং ওয়ার্ডের সবজিপাড়ায় গণসংযোগকালে তিনি বলেন, কোন ব্যাটারীচালিত অটোবাইক-রিক্সা বন্ধ করা হবে না। মোড়ে মোড়ে অটোবাইক চালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি নির্বাচিত হলে রাস্তায় নতুন অটোবাইক নামানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ফি কমানো হবে।
